ফ্রান্সে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ প্রত্যাখ্যান ম্যাক্রোঁর

আপলোড সময় : ২০-১০-২০২৬ , আপডেট সময় : ২০-১০-২০২৬ ০৪:১৫:৫০ অপরাহ্ন

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জ্বালানির অস্বাভাবিক দামকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ায় চাপে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার মধ্যে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন নুনিয়াজ। তবে সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি ম্যাক্রোঁ। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুতর সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকার এখন নানা চ্যালেঞ্জের মুখে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এলিসি প্যালেসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বাহিনীর নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি বলে মনে করছেন ম্যাক্রোঁ। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলায় নতুন কার্যপদ্ধতি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও জনসেবার অবনতির প্রতিবাদে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৩৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর ৯৯৭ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানী প্যারিসসহ মার্সেই, লিয়ন, বর্ডো ও লিমোজের মতো বড় শহরে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। লিমোজে মুখোশধারীদের হামলায় ঐতিহাসিক টাউন হলে আগুন লাগে। মার্সেই ও লিমোজে পৌরসভার বিভিন্ন ভবনে হামলা চালানো হয়। বর্ডোতে জেলা প্রশাসকের বাসভবনেও ভাঙচুর করা হয়। এমনকি একদল বিক্ষোভকারী প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন এলিসি প্যালেসের আশপাশে পৌঁছে যাওয়ায় দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন শহরে একাধিক টাউন হলে আগুন দেওয়া এবং শত শত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের প্রস্তুতি ও অভিযান পরিচালনা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা জোরালো হয়েছে। গ্রিন পার্টির প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মারিন টন্ডেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বলেন, তিনি সংকটের গভীরতা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। ‘ফ্রান্স আনবাউড’ ও ‘ন্যাশনাল র‍্যালি’ দলও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ অভিযোগ করেন, দেশজুড়ে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে।

তবে নিরাপত্তা অভিযান নিয়ে অপর্যাপ্ত পরিকল্পনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন নুনিয়াজ। তাঁর দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীকে এমন একদল সুপরিকল্পিত মানুষের মোকাবিলা করতে হয়েছে, যারা আকস্মিক হামলা চালিয়ে দ্রুত ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়ার কৌশল নিয়েছিল। মার্সেইয়ের মেয়র বেনোয়া পায়ান শহরটিকে অরক্ষিত রাখার অভিযোগ তুললেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, রোববার দিনের শুরুতেই প্রায় দুই হাজার দাঙ্গাকারীর উপস্থিতি পুলিশকে অপ্রস্তুত করে দেয়।

ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের নিন্দা জানিয়ে রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে টেলিভিশন ভাষণ দেন ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই রাগ ও লজ্জা অনুভব করছি। যারা ধ্বংস চালিয়েছে, তাদের এর মূল্য দিতে হবে।

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :