ব্যারিকেড ভাঙায় সিজেপির দুই নেতাকে দিল্লি হাইকোর্টের তিরস্কার

আপলোড সময় : ২২-১০-২০২৬ , আপডেট সময় : ২২-১০-২০২৬ ০২:৫৬:৫৭ অপরাহ্ন

ভারতের দিল্লিতে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে যন্তর মন্তরের স্বীকৃতি বাতিলের পর সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করায় ককক্রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে ভর্ৎসনা করেছেন দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ব্যারিকেড স্থাপনের পেছনে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে। অনুমতি ছাড়া তা অতিক্রম করে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) শুনানিতে দুই নেতার আইনজীবী অভীক চিমনিকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, ‘ব্যারিকেড একটি উদ্দেশ্যে স্থাপন করা হয়। আপনি যখন ব্যারিকেড ভাঙেন, তখন আরও ১০-২০ জন সেখানে চলে আসার আশঙ্কা থাকে।’ এ সময় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ক্ষেত্রেও পুলিশের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন বিচারপতিরা। তাঁদের মতে, অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভস্থলে প্রবেশ করলে অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিরা পরিস্থিতি নষ্ট করতে পারেন। শুনানিতে অন্যান্য দেশে অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার ঘটনা এবং ফ্রান্সের চলমান বিক্ষোভের প্রসঙ্গও উঠে আসে।

আদালত প্রশ্ন করেন, অনুমতি ছাড়া ব্যারিকেড অতিক্রম করে প্রবেশের পর বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ চ্যালেঞ্জ করার আইনি ভিত্তি কী। তবে বিচার বিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর আদেশের বিরুদ্ধে করা আবেদন আদালত গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালে দুই নেতা তা প্রত্যাহার করে নেন।

গত ১৪ অক্টোবর থেকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা। অভিযোগ, তাঁরা যন্তর মন্তরের তালাবদ্ধ ফটক টপকে সেখানে প্রবেশ করেছিলেন। এর আগে জুন ও জুলাই মাসে ওই স্থানে তাঁদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপও অংশ নেন।

চলতি মাসের শুরুতে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে দেওয়া স্বীকৃতি বাতিল করা হয়। এর পরও সেখানে বিক্ষোভের আহ্বান জানানোর অভিযোগ রয়েছে দুই নেতার বিরুদ্ধে। গত ১৯ অক্টোবর দিল্লির মন্দির মার্গ থানার বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ আরও দুই দিন বাড়ান। জনশান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, স্বীকৃতি বাতিলের পরও বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়ে তাঁরা আইনকে অসম্মান করেছেন। তাঁদের মুক্তি জনশৃঙ্খলার জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করতে পারে বলে দাবি করেছিল দিল্লি পুলিশ।

বুধবারের শুনানিতে জামিনের মুচলেকা ভঙ্গের অভিযোগে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে হাইকোর্ট। আদালত উল্লেখ করেন, গত ১১ অক্টোবর দুই নেতা জামিনের মুচলেকা জমা দেন। ওই দিনই যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থল হিসেবে দেওয়া স্বীকৃতি বাতিল করা হয়। পরে তাঁদের আবার গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) আওতায় জামিনের মুচলেকা ভঙ্গের ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি কেন, তা জানতে চান আদালত।

এর আগে ১০ অক্টোবর দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ থেকে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করা হয়। বিএনএসএসের ১২৬ ও ১৭০ ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরে দুজনই ৫০ হাজার রুপির মুচলেকা জমা দেন।

দুই নেতার আইনজীবীর দাবি, হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে ভবিষ্যতে ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ তৈরি হওয়ার যে আশঙ্কা দেখানো হয়েছে, সে বিষয়ে দিল্লি পুলিশ কোনো তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। এদিকে, যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে দেওয়া স্বীকৃতি বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ও দিল্লি হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :