মোঃ শরীফ হোসেন, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) : বাংলার লোকজ ঐতিহ্য ও দেশীয় কারুশিল্পের বৈচিত্র্য তুলে ধরার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে শেষ হয়েছে আট দিনব্যাপী লালন কারুমেলা। বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজিত এ মেলা গত ২৪ অক্টোবর শেষ হয়। মরমী সাধক লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে গত ১৭ অক্টোবর শুরু হয়েছিল এ আয়োজন।
মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১৫ জন কারুশিল্পী তাঁদের হাতে তৈরি ঐতিহ্যবাহী পণ্য নিয়ে অংশ নেন। নকশিকাঁথা, কাঠের রঙিন হাতি-ঘোড়া ও পুতুল, দারুশিল্প, হাতপাখা, বেতশিল্প, মাটির গহনা, ঝিনুকের কাজ, শতরঞ্জি, মণিপুরি তাঁত, কুমিল্লার খাদি, একতারা ও তাঁতবস্ত্রসহ নানা ধরনের কারুপণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়।
মেলার স্টলগুলোতে স্থান পাওয়া এসব পণ্যের মধ্য দিয়ে বাংলার গ্রামীণ জীবন, ঐতিহ্যবাহী নকশা ও কারুশিল্পের বৈচিত্র্য ফুটে ওঠে। একই সঙ্গে কারুশিল্পীরা তাঁদের তৈরি পণ্য সরাসরি ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরার সুযোগ পান। মেলা চলাকালে কয়েকজন শিল্পী স্টলেই নিজেদের কারুশিল্প তৈরির কাজ প্রদর্শন করেন, যা ঐতিহ্যবাহী শিল্পের নির্মাণপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করে।
ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের মতে, বিলুপ্তপ্রায় লোকজ ঐতিহ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, গবেষণা, প্রদর্শন এবং হারিয়ে যেতে বসা কারুশিল্পের পুনরুজ্জীবনে সহায়তা করাই এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি দেশীয় কারুশিল্পীদের কাজের প্রসার এবং তাঁদের তৈরি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণেও এসব মেলা ভূমিকা রাখে।
মেলায় অংশ নেওয়া নকশিকাঁথাশিল্পী হোসনে আরা বলেন, ফাউন্ডেশনের এ আয়োজনে তিনি নিজের হাতে তৈরি নকশিকাঁথা প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ পেয়েছেন। মেলার স্টলেই তিনি কাঁথা তৈরির কাজ করেছেন। সুই-সুতার নকশায় বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন বলেও জানান তিনি।
কারুশিল্পী মিজানুর রহমান বলেন, মেলায় দর্শনার্থীদের কাছে তাঁর তৈরি কারুপণ্যের চাহিদা ছিল। প্রতিদিনই অনেক পণ্য বিক্রি হয়েছে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে কারুশিল্পীরা তাঁদের কাজ তুলে ধরার পাশাপাশি সরাসরি ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ পান।
আট দিনব্যাপী এ আয়োজন শেষ হলেও লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণ, দেশীয় কারুশিল্পের প্রসার এবং কারুশিল্পীদের সৃজনশীল কাজের পরিচিতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে লালন কারুমেলার গুরুত্ব রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলার ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আগ্রহ আরও বাড়বে।