মেহেরঘোনায় বনের গাছ কাটার অভিযোগ, তথ্যদাতাদের হয়রানি

আপলোড সময় : ২৬-১০-২০২৬ , আপডেট সময় : ২৬-১০-২০২৬ ০৯:১৮:১৭ অপরাহ্ন

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের মেহেরঘোনা রেঞ্জের বনাঞ্চলে সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে বিক্রি, কাঠ পাচার এবং সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীরা। তাঁদের দাবি, বনাঞ্চলে গাছ কাটার তথ্য দেওয়ার পর উল্টো হুমকি ও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, মেহেরঘোনা রেঞ্জের নাদেরুজ্জামান উচ্চবিদ্যালয়ের পেছনে, ধলিরছড়া ও আশপাশের বিভিন্ন সামাজিক বনায়ন এলাকায় গত কয়েক বছরে বড় ও মাঝারি আকারের অনেক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ২০১৭–২০১৮ ও ২০১৮–২০১৯ অর্থবছরে সৃজিত সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার অভিযোগও রয়েছে। তবে কতটি গাছ কাটা হয়েছে এবং এতে কী পরিমাণ বনসম্পদের ক্ষতি হয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া মেহেরঘোনা রেঞ্জের বনাঞ্চল থেকে গাছ কেটে পাচারের অভিযোগও করেছেন স্থানীয় ব্যক্তিরা। তাঁদের ভাষ্য, সম্প্রতি বনাঞ্চল থেকে কাঠ পাচারের সময় ৫০ ফুটের বেশি গোল কাঠ উদ্ধার করে ঈদগাঁও রেঞ্জ কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে উদ্ধার করা কাঠের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ, উৎস ও এ ঘটনায় নেওয়া আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বদিউল আলমের বাড়ির পাশের বাগান, নুরুল আলম সওদাগরের বাগান, নুরুল আজিমের বাগান, নোয়াখালীর বাগানসহ কয়েকটি সামাজিক বনায়ন এলাকায় গাছ কাটা হয়েছে। শ্রীনিবাসের জমিতে করা বনায়নেও গাছ কাটার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বাগানের অবস্থান, গাছের সংখ্যা, বনায়নের মেয়াদ ও কর্তনসংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তথ্যদাতাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সামাজিক বনায়নের কয়েকজন উপকারভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাতের আঁধারে বনাঞ্চলের গাছ কেটে নেওয়া হলেও এসব ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে তাঁদের অভিযোগ। বনাঞ্চলে গাছ কাটার তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানালে তা দ্রুত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে যায় বলেও দাবি করেন তাঁরা। এরপর তথ্যদাতাদের হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি, লিখিত অভিযোগ কিংবা আইনগত পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের নথিপত্র পর্যালোচনা এবং অভিযোগকারীদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।

সরকারি বরাদ্দ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ জবরদখল উচ্ছেদ ও পরিচালন ব্যয়ের নামে সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের অভিযোগ, ভুয়া ভাউচার এবং নামমাত্র চারা রোপণের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। বনাঞ্চলে কাটা গাছের গোড়া আড়াল করতে নতুন চারা রোপণ করা হচ্ছে বলেও দাবি তাঁদের।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বরাদ্দের হিসাব, ব্যয়ের ভাউচার, চারা বিতরণ ও রোপণের নথি এবং সরেজমিন পরিদর্শনের প্রতিবেদন যাচাই করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্তের ফল ছাড়া অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

অভিযোগ অস্বীকার বন কর্মকর্তার অভিযোগের বিষয়ে মেহেরঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসলামিয়া হোসেন বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা খবর ছড়ানো হচ্ছে। এসব ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলেও দাবি করেন।

অন্যদিকে, ধলিরছড়া ও কালিরছড়া বিটের দায়িত্বে থাকা বিট কর্মকর্তা আবদুল সামাদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

বনাঞ্চলের গাছ কাটার অভিযোগ, কাঠ উদ্ধারের ঘটনা, সামাজিক বনায়নের হিসাব এবং তথ্যদাতাদের নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং বনসম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :