যে ধস থেকে আন্দোলনের শুরু, সেখানে ফিরছেন নির্বাচনজয়ী ছাত্ররা: নোভি সাদ ট্র্যাজেডির দুই বছর

আপলোড সময় : ০১-১১-২০২৬ , আপডেট সময় : ০১-১১-২০২৬

সার্বিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর নোভি সাদে রেলস্টেশন ধসে ১৬ জনের মৃত্যুর দুই বছর পূর্তি রোববার। দিনটি স্মরণে হাজার হাজার মানুষের সমবেত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই দুর্ঘটনা ঘিরেই দেশটিতে সরকারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সূচনা, যা শেষমেশ এক সপ্তাহ আগে ডানপন্থী ক্ষমতাসীন দলের পতনে ভূমিকা রাখে। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

দুই বছর আগে নোভি সাদের সংস্কার করা রেলস্টেশনের কংক্রিটের ছাউনি ভেঙে পড়ে ১৬ জন মারা যান, যাঁদের মধ্যে ছিল ছয় ও ১০ বছর বয়সী দুই বোন।

দুর্ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নামে, সঙ্গে প্রশ্ন ওঠে কয়েক মিলিয়ন ইউরো খরচ করে স্টেশনটির সংস্কারকাজ নিয়ে। এর জের ধরে শুরু হয় ব্যাপক বিক্ষোভ, যা ২০০০ সালে সাবেক স্বৈরশাসক স্লোবোদান মিলোসেভিচের পতনের পর সার্বিয়ার অন্যতম বড় গণবিক্ষোভ।

ওই দুর্ঘটনায় ২৭ বছর বয়সী ছেলে স্তেফানকে হারিয়েছেন দিয়ানা হ্রকা। এএফপিকে তিনি বলেন, ‘যেখানে ঘটনাটি ঘটেছিল, সেখানে ফিরে যাওয়া খুবই কষ্টের।’ তাঁর ভাষায়, ‘প্রতিবার সেখানে ফিরে যাওয়া আগের চেয়েও কঠিন হয়ে ওঠে।’

আগাম নির্বাচনের ফল ঘোষণার মাত্র এক সপ্তাহ পর এবারের বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। নির্বাচনে জয় পাওয়া ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা আবার ফিরছেন সেই জায়গায়, যেখান থেকে তাঁদের আন্দোলন শুরু হয়েছিল।

ছেলেকে হারানোর পর দিয়ানা হ্রকা নিজেই হয়ে ওঠেন আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক। ন্যায়বিচারের দাবিতে চলমান এই আন্দোলন তাঁকে আশার আলো দেখিয়েছে বলে জানান তিনি।

গত দুই বছরের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে হ্রকা বলেন, ‘মানুষের সমর্থন আমার কাছে অনেক বড় বিষয় ছিল।’ অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি যোগ করেন, ‘যারা আমাকে সমর্থন করেছেন, যারা আন্তরিকভাবে চান আমরা সবাই একসঙ্গে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করি, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’ অথচ ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কাউকে দায়ী করে শাস্তির আওতায় আনা হয়নি।

দুর্ঘটনার সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্ত চেয়ে সার্বিয়াজুড়ে রাজপথে নামেন লাখো মানুষ। সেই আন্দোলনই গত রোববারের নির্বাচনে ছাত্র আন্দোলন-সমর্থিত জোটের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২৫০ আসনের পার্লামেন্টে প্রায় ১৪০টি আসন পেয়েছে ছাত্র-সমর্থিত তালিকাটি; ফলে এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখন তাদের হাতে।

রাজনীতির এই বড় পালাবদলে রেলস্টেশন দুর্ঘটনার তদন্ত আরও গতি পাবে বলে আশা করছেন দিয়ানা হ্রকা। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। এই মুহূর্তে আমাকে বাঁচিয়ে রাখার একমাত্র প্রেরণা হলো— একদিন ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে, এই বিশ্বাস।’

নির্বাচনে হার মেনে নিয়ে আলেকজান্ডার ভুচিচের দল ক্ষমতা ছাড়ার কথা স্বীকার করার পর থেকে দুর্নীতি ও আলোচিত হত্যাকাণ্ডের একাধিক তদন্তে অগ্রগতির দাবি তুলছেন ছাত্রনেতারা। বিদায়ী সরকারের নেওয়া নানা প্রকল্প নিয়েও নতুন করে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। সেই সঙ্গে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের পদত্যাগও দাবি করেছে ছাত্র আন্দোলন।

নোভি সাদের রেলস্টেশন দুর্ঘটনা নিয়ে একাধিক তদন্ত চললেও কোনো মামলার বিচার এখনো শুরু হয়নি।

দুর্ঘটনার কয়েক দিনের মাথায় পদত্যাগ করা সাবেক নির্মাণমন্ত্রী গোরান ভেসিচ ও আরও ১২ জনের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালে জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টির অভিযোগে মামলা হয়। প্রকল্পের অর্থায়ন ঘিরে আলাদা একটি দুর্নীতির তদন্তেও সন্দেহভাজন হিসেবে আছেন ভেসিচ; সেখানে আরেক সাবেক মন্ত্রী তোমিস্লাভ মোমিরোভিচসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।

স্টেশন সংস্কারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থের সম্ভাব্য অপব্যবহারের অভিযোগ পৃথকভাবে খতিয়ে দেখছে ইউরোপীয় পাবলিক প্রসিকিউটরস অফিস।

দিয়ানা হ্রকা বলেন, ‘এখন যদি আমরা দায়ীদের কারাগারে পাঠাতে পারি, তাহলে এমন ঘটনা আর কখনো ঘটবে না।’ সন্তানহারা এই মা আরও বলেন, ‘আমি আশা করি, কোনো মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রতিবাদে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে রাজপথে নামতে হওয়ার ঘটনা এটাই শেষবার। আমার একমাত্র চাওয়া এটুকুই।’

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :