টঙ্গীর নারীকে হত্যা করে শেরপুরে লাশ ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা

আপলোড সময় : ০২-১১-২০২৬ , আপডেট সময় : ০২-১১-২০২৬ ০১:১৬:৫৮ পূর্বাহ্ন

অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে ঝিনুক আক্তার (২৬) নামে এক নারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর পরিচয় গোপন ও ঘটনা আড়াল করতে তাঁর মরদেহ একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে শেরপুরের শ্রীবরদীতে ফেলে যায় অভিযুক্তরা। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গত ২২ অক্টোবর সকালে শ্রীবরদী থানা পুলিশ খবর পায়, উপজেলার কুড়িকাহনিয়া সেতুর নিচে একটি বড় নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম ভাসছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় ড্রামটি খুলে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।

পরে পিবিআই শেরপুরের অপরাধ তদন্ত দল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রযুক্তি ও তদন্তের মাধ্যমে নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত করে। তাঁর নাম ঝিনুক আক্তার। তিনি গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদনগর এলাকার মো. শাকিল মিয়ার মেয়ে।

এ ঘটনায় নিহতের ফুফু শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে স্বামী মো. সাইফুল ইসলাম মুন্নাসহ অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে শ্রীবরদী থানায় হত্যা মামলা করেন। ২৩ অক্টোবর দায়ের করা মামলাটির নম্বর ১০। এতে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার পর পিবিআই শেরপুর ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং পরবর্তী সময়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্তের দায়িত্ব নেয়। পিবিআইয়ের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় এবং শেরপুর ইউনিটের পুলিশ সুপার পংকজ দত্তের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তদন্ত চালানো হয়। তথ্যপ্রমাণ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার দিঘলগ্রাম এলাকার মো. নুর ইসলাম বাবু (৪৪), জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার বাঘমারা শিশুয়া এলাকার মো. সজল (৪৪), শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা এলাকার মো. নুর মোহাম্মদ গোসা (৪৪) এবং কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার কুশিয়ারা এলাকার মাহবুবা আক্তার ফাতেমা (৪৪)।

পিবিআইয়ের তদন্ত, মামলার এজাহার ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া জবানবন্দির বরাতে জানা যায়, ঝিনুক আক্তার গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় একটি পার্লারে কাজ করতেন। গত ২১ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি গ্রেপ্তার সজল ও নুর ইসলাম বাবুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ঢাকার উত্তরখান এলাকার কবিরশাহ মাজারে যান। সেখান থেকে ফাতেমা ও নুর মোহাম্মদ তাঁকে সজল ও বাবুর সঙ্গে নিয়ে দক্ষিণখান থানার মৌশাইর এলাকার ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডে মাল্টি গার্মেন্টসের পূর্ব পাশে আঃ সাত্তারের নির্মাণাধীন পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে নিয়ে যান।

তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই কক্ষে ১০ থেকে ১২ জনের সঙ্গে ঝিনুকের শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা হয়। রাত দুইটার দিকে তিনি চলে যেতে চাইলে ফাতেমা তাঁকে ১ হাজার ২০০ টাকা দেন। তবে ঝিনুক আরও টাকা দাবি করে আপত্তি জানালে দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ফাতেমা তাঁকে থাপ্পড় মারেন। ঝিনুকও তাঁকে আঘাত করেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফাতেমা ঘরে থাকা বটি দিয়ে ঝিনুককে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। তিনি মেঝেতে পড়ে গেলে অন্যরা তাঁর হাত-পা চেপে ধরেন এবং গলায় গামছা পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :