প্রিন্স গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট ৪ ব্যক্তি ও ৪১ প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, তালিকায় মাদাগাস্কারের চক্রও

আপলোড সময় : ০৬-১১-২০২৬ , আপডেট সময় : ০৬-১১-২০২৬ ০৫:০২:০৮ অপরাহ্ন

মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করে প্রতারণা চালানোর অভিযোগ থাকা কম্বোডিয়াভিত্তিক একটি কথিত অনলাইন প্রতারণা চক্র এবং আফ্রিকার মাদাগাস্কারে সক্রিয় একটি অপরাধী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত কয়েক ডজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় (ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট); এর আওতায় পড়েছে কম্বোডিয়ার প্রতিষ্ঠান প্রিন্স গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার ব্যক্তি ও ৪১টি প্রতিষ্ঠান। শত শত কোটি ডলারের অনলাইন প্রতারণা কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ রয়েছে প্রিন্স গ্রুপের বিরুদ্ধে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়া এখন আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলোর অন্যতম কেন্দ্র। ভুয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগের লোভ দেখিয়ে এসব চক্র অনলাইনে প্রতারণা করে, যার ফাঁদে পড়ে আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন নানা দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। এসব প্রতারণায় কেউ কেউ নিজের ইচ্ছায় জড়ালেও অনেককে মানব পাচারের মাধ্যমে এনে জোর করে কাজে লাগানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীনসহ কয়েকটি দেশের চাপের মুখে কম্বোডিয়া সরকার বলছে, এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে তারা অভিযান চালাচ্ছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা চার ব্যক্তির মধ্যে আছেন প্রিন্স গ্রুপের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কিউ ইয়ং। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি বলছে, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসের একাধিক প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে তিনি হংকংভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের একটি নেটওয়ার্ক চালাতেন। ঋণ দেওয়াসহ নানা ব্যবসায় এসব প্রতিষ্ঠান জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, কম্বোডিয়া, সেন্ট লুসিয়া ও তুরস্কের পাসপোর্টধারী কিউ ইয়ং ঋণদাতা বিভিন্ন সেবা ও ওয়াইন ব্যবসাসহ নানা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রিন্স গ্রুপের অর্থ পাচারে সহায়তা করেছেন।

প্রিন্স গ্রুপের চীনে জন্ম নেওয়া প্রতিষ্ঠাতা চেন ঝিকে গত জানুয়ারিতে কম্বোডিয়া থেকে চীনে প্রত্যর্পণ করা হয়। তার কয়েক মাস আগেই প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রিন্স গ্রুপের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।

কম্বোডিয়া কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, চেন ঝিসহ প্রিন্স গ্রুপের অন্তত ছয় শীর্ষ কর্মকর্তা গ্রেফতার হয়েছেন। পাশাপাশি জব্দ করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১০০ কোটি ডলার মূল্যের ক্যাসিনো, ভবন ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি।

অন্যদিকে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কারে একটি প্রতারণা চক্রের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে মালয়েশিয়ার নাগরিক চুই কক ওয়াকেও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রেখেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।

কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত গত সেপ্টেম্বরে প্রতারণাবিরোধী এক সম্মেলনে বলেছিলেন, অনলাইন প্রতারণার অপরাধীদের জন্য তাঁর দেশকে কখনোই ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হতে দেওয়া হবে না।

বিশ্লেষকেরা অবশ্য বলছেন, এসব অপরাধী চক্রকে প্রভাবশালী মহলের দেওয়া সুরক্ষার ব্যবস্থা এবং অপরাধ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও অবকাঠামোগত নেটওয়ার্ক এখনো পুরোপুরি ভাঙা যায়নি।

বৃহস্পতিবারের বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘সাইবার প্রতারণার অপরাধী চক্রগুলো এখনো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছ থেকে শত শত কোটি ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে।’

সম্পাদকীয় :

 সম্পাদক ও প্রকাশক : এসএম শহীদ উল্লাহ, নির্বাহী সম্পাদক : শারমিন সুলতানা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : এসকে তমিজ উদ্দিন

অফিস : ১৯৩/১ (৩য় তলা) মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০ থেকে প্রকাশিত। মোবাইল : 01753492430, ই-মেইল : ajkerawaz73@gmail.com

অফিস :