• জাতীয়
  • ১৫ নভেম্বর থেকে বদলে যাচ্ছে পুলিশের পোশাকের রং: 'আয়রন কালার'-এর আড়ালে মানসিক সংস্কারের জরুরি তাগিদ

১৫ নভেম্বর থেকে বদলে যাচ্ছে পুলিশের পোশাকের রং: 'আয়রন কালার'-এর আড়ালে মানসিক সংস্কারের জরুরি তাগিদ

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
১৫ নভেম্বর থেকে বদলে যাচ্ছে পুলিশের পোশাকের রং: 'আয়রন কালার'-এর আড়ালে মানসিক সংস্কারের জরুরি তাগিদ

সমালোচনার মুখে বাহিনীতে আমূল পরিবর্তন আনার উদ্যোগ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের; গণমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনবান্ধব হওয়ার আহ্বান অপরাধ বিশ্লেষকদের।

দীর্ঘদিনের পুরোনো ও পরিচিত পোশাক ছেড়ে নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী। আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে কনস্টেবল থেকে শুরু করে মহাপরিদর্শক (IGP) পর্যন্ত সকল স্তরের পুলিশ সদস্যকে নতুন রঙের পোশাকে দেখা যাবে। গাঢ় নীল রঙের পরিবর্তে এবার তাদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে 'আয়রন কালার' (Iron Color) বা লোহার মতো ধূসর-নীল পোশাক। এই পরিবর্তন কেবল বাহ্যিক নয়, বরং সম্প্রতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বৃহত্তর 'রিফর্ম' (Reform) প্রক্রিয়ার অংশ।

কেন এই পরিবর্তন? সমালোচনার মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন এবং এর অব্যবহিত পরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ায় এবং নিরপরাধ সদস্যদের মনোবল ভেঙে পড়ায়, পুলিশকে ঢেলে সাজানো এবং তাদের পোশাকে পরিবর্তন আনার দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে।

এই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুলিশ, র‍্যাব এবং আনসার বাহিনীর পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রাথমিক পর্যায়ে পোশাকের কাপড়ের রং নিয়ে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা হলেও, শেষ পর্যন্ত পুলিশের জন্য 'আয়রন কালার' চূড়ান্ত করা হয়, যা গতানুগতিকতার বাইরে নতুনত্বের ইঙ্গিত বহন করছে।

প্রথম ধাপে কারা পাচ্ছেন নতুন পোশাক?

পুলিশ সদর দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে নতুন এই পোশাকের ব্যবহার শুরু হবে চলতি মাসের ১৫ তারিখ থেকে। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, প্রথম ধাপে মহানগর পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ (Highway Police), নৌপুলিশ (Naval Police) এবং পিবিআই (PBI)-এর সদস্যরা এই নতুন রঙের পোশাক পরিধান করবেন। পর্যায়ক্রমে পুলিশের অন্যান্য ইউনিট (Unit)-এও এই পোশাক সরবরাহ করা হবে।

অর্থাৎ, এই পরিবর্তনের সূচনা হচ্ছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকা শাখাগুলো থেকে। এটি কার্যত একটি 'ট্রায়াল রান' (Trial Run) হিসেবে কাজ করবে, যা ভবিষ্যতে দেশজুড়ে নতুন ইউনিফর্ম চালু করার পথ প্রশস্ত করবে।

পোশাক নয়, মানসিকতার পরিবর্তনই মূল চ্যালেঞ্জ

পোশাকের এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। তবে তারা জোর দিচ্ছেন মূল সমস্যার সমাধানে—যা হলো পুলিশের 'মানসিকতা পরিবর্তন' (Mental Reform) এবং জনবান্ধব হওয়া।

বিশিষ্ট অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হকের মতে, পুলিশের জন্য একটি নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে এবং তাদের আচরণের মৌলিক পরিবর্তন না এলে, কেবল নতুন পোশাক কোনো তাৎপর্য বহন করবে না। তিনি মনে করেন, পুলিশের আচরণে 'পেশাদারিত্ব' (Professionalism) এবং জনসেবার মনোভাব আনতে সুদূরপ্রসারী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক। পুলিশের প্রতি জনগণের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং তাদের 'জনবান্ধব' (Public Friendly) করে তোলাই এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

র‍্যাবের পোশাকে পরিবর্তন নিয়ে অপেক্ষা

পুলিশের পোশাক পরিবর্তন নিশ্চিত হলেও, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB)-এর পোশাকের বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানিয়েছেন, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত র‍্যাব সদস্যরা আপাতত তাদের চিরায়ত কালো রঙের পোশাকই পরিধান করবেন। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুতই তাদের নতুন পোশাকের বিষয়েও সিদ্ধান্ত জানানো হবে।