দেশের রাজনীতিতে ফের এক নতুন সমীকরণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত মুখ ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নয়, তিনি এবার একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, তিনি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন গণ অধিকার পরিষদ (Gono Odhikar Parishad) থেকে প্রার্থী হতে পারেন। এই সম্ভাবনাই এখন দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের প্রস্তুতি
হিরো আলমের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে ভিপি নুরের সঙ্গে তার ইতোমধ্যে কয়েক দফা বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। এমনকি গণ অধিকার পরিষদের প্রধান ভিপি নুর স্বয়ং হিরো আলমের কার্যালয়ে গিয়েও সাক্ষাৎ করেছেন বলে খবর।
এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি না হলেও হিরো আলম সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করে বলেন, "সময় হলে সব কিছু বলবো। তবে এটুকু বলতে পারি, এইবার আমি যে কোনো দলের হয়ে জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হবো। স্বতন্ত্র না। কয়েক দিনের মধ্যেই জানাতে পারবো কোন দলের হয়ে অংশ নিচ্ছি।"
দুই আসন থেকে লড়ার সিদ্ধান্ত
হিরো আলম নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি এবার মোট দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আসন দুটি হলো রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম)।
একসঙ্গে দুই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণ হিসেবে তিনি জানান, "এর আগেও আমি দুই আসন থেকে নির্বাচন করেছি। এই আসনগুলোর মানুষের সঙ্গে আমার আলাদা সম্পর্ক আছে। জনগণ তো চায় আমি নির্বাচন করি। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি দুই আসন থেকেই নির্বাচন করবো।"
কেমন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা?
ঢাকা-১৭ আসনে হিরো আলমকে বেশ কয়েকজন শক্তিশালী প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হতে পারে। এদের মধ্যে আন্দালিব রহমান পার্থ (বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি), জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, এনসিপি এবং আরও কয়েকটি দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, বগুড়া-৪ আসনেও একাধিক দলের প্রার্থী থাকবেন। এখানে বিএনপি থেকে মোশারফ হোসেন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বগুড়ার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তা নিয়ে একজন ব্যক্তির মূলধারার রাজনীতিতে এমন প্রবেশ, বাংলাদেশের নির্বাচনী পরিবেশ এবং তরুণ ভোটারদের মধ্যে নতুন ধরনের আগ্রহ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।