• জাতীয়
  • নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার যুগ শেষ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারে খড়্গহস্ত ইসি

নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার যুগ শেষ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারে খড়্গহস্ত ইসি

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
 নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার যুগ শেষ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারে খড়্গহস্ত ইসি

ঐতিহাসিক পরিবর্তন এনে নির্বাচনী আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ; লক্ষ্য পরিবেশবান্ধব, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক এক নির্বাচন। প্রার্থিতা বাতিলসহ থাকছে কঠোর শাস্তির বিধান।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা করল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (১১ নভেম্বর) রাতে প্রকাশিত ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’-এর গেজেটে এমন কিছু নতুন নিয়ম সংযোজন করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতির চিরাচরিত চিত্রকে পুরোপুরি বদলে দেবে। এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সব ধরনের পোস্টার ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial Intelligence) অপব্যবহার রোধে নেওয়া হয়েছে কঠোর অবস্থান।

পোস্টারের রাজনীতি অতীত, আসছে পরিবেশবান্ধব প্রচার

এই বিধিমালার সবচেয়ে যুগান্তকারী পরিবর্তন হলো নির্বাচনী প্রচারণা থেকে কাগজের পোস্টার সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা। এর ফলে, নির্বাচনী মৌসুমের চিরাচরিত দৃশ্য—পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে যাওয়া শহর বা গ্রামের দেয়াল, গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি আর দেখা যাবে না। তবে প্রচার পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। প্রার্থীরা ব্যানার বা বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন, তবে শর্ত হলো, সেগুলো অবশ্যই পরিবেশবান্ধব হতে হবে। প্রচার সামগ্রীতে পলিথিন বা রেকসিনের মতো পরিবেশ দূষণকারী উপাদান ব্যবহারেও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে কালো টাকার প্রভাব এবং নির্বাচনী পরিবেশ দূষণ কমানোর পথে এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে ইসির কঠোর অবস্থান

ডিজিটাল যুগের নির্বাচনী প্রচারণাকে মাথায় রেখে বেশ কিছু নতুন নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচনী কাজে Drone ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজনটি এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI সংক্রান্ত। বিধিমালায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রচার-প্রচারণাসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা যাবে না। ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ভুয়া তথ্য ছড়ানো, প্রতিপক্ষের চেহারা বিকৃত করে deepfake ভিডিও তৈরি এবং নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো বানোয়াট content তৈরি ও প্রচার করাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। প্রতিপক্ষ, নারী, সংখ্যালঘু বা অন্য কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা উসকানিমূলক ভাষাও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শব্দ সন্ত্রাস ও শোডাউনে নিষেধাজ্ঞা

জনদুর্ভোগ কমাতে এবং নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত রাখতে এবার যানবাহন সহকারে মিছিল বা যেকোনো ধরনের শোডাউন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ করা হয়েছে মশাল মিছিলও। প্রচারের সময় শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেল নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনী শব্দ সন্ত্রাস রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কঠোর শাস্তি ও নতুন সংযোজন

নতুন আচরণবিধি লঙ্ঘনের পরিণতি হবে মারাত্মক। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সরাসরি প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতা রাখবে। অন্যান্য বিধি লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। একই অপরাধে রাজনৈতিক দলের জন্যও দেড় লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

এবারের বিধিমালায় একটি অভিনব বিধানও যুক্ত করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা তার নির্বাচনী এলাকার সব প্রার্থীকে নিয়ে একদিন একটি মঞ্চে নিজ নিজ ইশতেহার বা ঘোষণাপত্র পাঠ করার ব্যবস্থা করবেন, যা ভোটারদের জন্য প্রার্থীদের নীতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে জানা আরও সহজ করে তুলবে। এছাড়া, প্রতিটি দল ও প্রার্থীকে আচরণবিধি মেনে চলার জন্য একটি অঙ্গীকারনামা প্রদান করতে হবে।