• খেলা
  • আমার সন্তানেরাও বাংলাদেশে ফিরতে চায়’— রবি’র মঞ্চে শিকড়ের টান আর ফুটবলের স্বপ্ন নিয়ে অকপট হামজা

আমার সন্তানেরাও বাংলাদেশে ফিরতে চায়’— রবি’র মঞ্চে শিকড়ের টান আর ফুটবলের স্বপ্ন নিয়ে অকপট হামজা

খেলা ১ মিনিট পড়া
আমার সন্তানেরাও বাংলাদেশে ফিরতে চায়’— রবি’র মঞ্চে শিকড়ের টান আর ফুটবলের স্বপ্ন নিয়ে অকপট হামজা

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের তারকা শুধু অর্থের জন্য আসেননি, দেশের প্রতি ভালোবাসা আর পরিবারের গর্বই তাঁর মূল চালিকাশক্তি। জানালেন, সন্তানদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের প্রতি এই টান।

ইংল্যান্ডের সবুজ গালিচা থেকে বাংলাদেশের দুর্বা ঘাস—হামজা চৌধুরীর এই যাত্রাটা কেবলই এক ফুটবলারের পেশাদারিত্বের নয়, বরং শিকড়ের প্রতি গভীর টানের এক জীবন্ত দলিল। বাবার জন্মভূমির হয়ে মাঠে নামার পর থেকেই তিনি এখন বাংলাদেশের ফুটবলের নতুন পোস্টার বয়। এবার দেশের অন্যতম শীর্ষ টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান রবি আজিয়াটা পিএলসি-এর সঙ্গে যুক্ত হলেন তিনি। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে রবি আনুষ্ঠানিকভাবে হামজা চৌধুরীকে এক বছরের জন্য তাদের নতুন ‘Brand Ambassador’ বা শুভেচ্ছাদূত হিসেবে ঘোষণা করেছে।

‘বিলিভ ইউ ক্যান’: শিকড়ের টানে একাত্ম রবি ও হামজা

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে রবির করপোরেট কার্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে হামজার আগমন ঘিরে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। মঞ্চের ডিজিটাল ছবিতে লেখা ‘সুপার ফুটবলার, রবি সুপারনেটে’। রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী জিয়াদ সাতারা বলেন, "হামজা চৌধুরীকে শুভেচ্ছাদূত হিসেবে পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। বাংলাদেশের হয়ে খেলতে হামজা চৌধুরী নিজের শিকড়ে ফিরে এসে যে দেশপ্রেমিক চেতনার প্রকাশ ঘটিয়েছেন, রবির ‘বিলিভ ইউ ক্যান’ প্রচারণার মূল ভাবনাও ঠিক তা-ই।"

এই অংশীদারিত্বের জন্য রবির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে হামজা বলেন, "রবির সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি আনন্দিত। আশা করি, এই যাত্রায় আমি বাংলাদেশের যুব সমাজকে অনুপ্রাণিত করতে পারব এবং দেশের ফুটবলের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি আরও উন্নত করতে সাহায্য করব।"

অর্থ নয়, দেশ ও পরিবারের গর্বই মূল চালিকাশক্তি

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লেস্টার সিটির একজন খেলোয়াড় হিসেবে হামজার আর্থিক ভিত্তি এতটাই সুদৃঢ় যে, যেকোনো ‘Corporate Deal’ তাঁর কাছে অর্থের চেয়েও আদর্শিক সংযোগের বিষয়। বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসাই যে তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় পাওয়া, তা তিনি অকপটে স্বীকার করলেন।

দেশের প্রতি নিজের ও সন্তানদের এই অমোঘ টান নিয়েই অকপট স্বীকারোক্তি দিলেন হামজা, "আমার বাবা এই দেশেই জন্মেছেন ও বড় হয়েছেন। তাঁর মুখে সেই হাসিটা দেখতে পাওয়াটাই আমার আসল প্রাপ্তি। প্রত্যেক সন্তানই চায় তার বাবা-মাকে গর্বিত করতে, আর আমি ভাগ্যবান যে পুরো জাতিকেই গর্বিত করার সুযোগ পেয়েছি।"

তিনি আরও যোগ করেন, "আমি এখানে যে ভালোবাসা পাই, সেটা খুব যত্নে লালন করি। যখনই আমি বাংলাদেশ ছাড়ি, আমার সন্তানেরা বলে, ওরা বাংলাদেশে ফিরতে চায়। ইনশাআল্লাহ, ওরা আগামী মার্চে আবার ফিরে আসবে।" এই কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর সন্তানদের মধ্যেও বাংলাদেশের প্রতি যে ভালোবাসা জন্মেছে, তা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত শোনালো তাঁর কণ্ঠ। গত মার্চে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয় হামজার। তাঁর অন্তর্ভুক্তি জাতীয় দলের খেলার ধরনে যেমন পরিবর্তন এনেছে, তেমনই গ্যালারিতে ফিরিয়ে এনেছে উন্মাদনা। আগামী ১৮ নভেম্বর এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আবারও ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে হামজা বলেন, "ইনশাআল্লাহ আমরা ভারতের বিপক্ষে জিতব।"

তাঁর জনপ্রিয়তার প্রমাণ মিলেছে ম্যাচের টিকিট বিক্রিতে। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের সব টিকিট মাত্র ছয় মিনিটের মধ্যে বিক্রি হয়ে যাওয়া এটাই প্রমাণ করে যে, হামজাকে ঘিরে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। ভারতের ম্যাচের আগে ১৩ নভেম্বর নেপালের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে লাল-সবুজের দল। এই ম্যাচ দুটি খেলতেই সোমবার ঢাকায় পা রেখেছেন এই মিডফিল্ড জেনারেল।