• প্রযুক্তি
  • শুধু বিজ্ঞাপনেই ভরসা নয়: 'ক্রিয়েটর ইকোনমি'র নতুন পথে হাঁটছেন ইউটিউব তারকারা, প্ল্যাটফর্মের বাইরে গড়ছেন নিজস্ব 'বিজনেস এম্পায়ার'

শুধু বিজ্ঞাপনেই ভরসা নয়: 'ক্রিয়েটর ইকোনমি'র নতুন পথে হাঁটছেন ইউটিউব তারকারা, প্ল্যাটফর্মের বাইরে গড়ছেন নিজস্ব 'বিজনেস এম্পায়ার'

প্রযুক্তি ১ মিনিট পড়া
শুধু বিজ্ঞাপনেই ভরসা নয়: 'ক্রিয়েটর ইকোনমি'র নতুন পথে হাঁটছেন ইউটিউব তারকারা, প্ল্যাটফর্মের বাইরে গড়ছেন নিজস্ব 'বিজনেস এম্পায়ার'

বিজ্ঞাপনের অনিশ্চয়তা ও অ্যালগরিদম পরিবর্তনের মুখে বিশ্বজুড়ে ইউটিউবাররা। কফি ব্র্যান্ড, রেস্তোরাঁ ও নিজস্ব মার্চেন্ডাইজ লাইনের মতো অফলাইন 'স্টার্টআপ' তৈরি করে স্থায়ী আয়ের উৎস খুঁজছেন তারা।

অনলাইন ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব আজ কেবল মনোরঞ্জনের মাধ্যম নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ 'ক্রিয়েটর ইকোনমি'র ভিত্তি। অতীতে ভিডিওর 'অ্যাড রেভিনিউ' ও ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্যাকেজ চুক্তি ছিল আয়ের প্রধান পাথেয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই মডেল থেকে সরে এসে অনেকেই ভিন্ন পথে হাঁটছেন। বিজ্ঞাপনী আয় থেকে অর্জিত 'মনিটাইজেশন'-এর অনিশ্চয়তা এবং প্ল্যাটফর্মের ঘন ঘন 'অ্যালগরিদম' পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রথম সারির 'ক্রিয়েটর'রা এখন বিকল্প আয়ের উৎসের দিকে মনোনিবেশ করছেন। তাঁরা এখন কনটেন্ট নির্মাতা থেকে পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী বা 'এন্টারপ্রেনর' হয়ে উঠছেন।

আয়-উৎসের বৈচিত্র্য: কেন এই পালাবদল?

'অ্যাড রেভিনিউ'র ওপর অত্যধিক নির্ভরশীলতার বিপদ এখন ক্রিয়েটরদের কাছে স্পষ্ট। প্ল্যাটফর্ম-নির্ভর ব্যবসা হওয়ায় এর নীতি, বিজ্ঞাপন নীতিমালা ও দৃশ্যমানতা হঠাৎ বদলাতে পারে, যা আয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলে। ভিডিওতে বিজ্ঞাপন পাওয়া, অর্থের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ক্রমাগত পরিবর্তিত হওয়া 'অ্যালগরিদম'-এ নিজের সুখ্যাতি ধরে রাখা— সবটাই এখন চ্যালেঞ্জিং। এই কারণে স্থায়ী ও প্ল্যাটফর্ম-মুক্ত আয়ের উৎস তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

ফলস্বরূপ, অনেক জনপ্রিয় ইউটিউবারই এখন সরাসরি বিজ্ঞাপন তুলে নিয়ে নিজস্ব পণ্যের লাইন (Product Line), অফলাইন 'স্টোর', কফি ব্র্যান্ড বা রেস্তোরাঁর মতো উদ্যোগ নিচ্ছেন। লক্ষ্য একটাই— নিজেদের ব্র্যান্ড ভ্যালুকে মূল 'ভিডিও কনটেন্ট' থেকে বের করে এনে এক স্বাধীন ব্যবসায়িক কাঠামো তৈরি করা।

বিশ্বজুড়ে 'বিজনেস মডেল'-এর উদাহরণ

এই নতুন 'বিজনেস মডেল'-এর অন্যতম উজ্জ্বল উদাহরণ হলেন ইউটিউব তারকা মিস্টার বিস্ট (MrBeast)। নিজের বিপুল সংখ্যক গ্রাহকগোষ্ঠীকে (Subscriber Base) কাজে লাগিয়ে তিনি শুধু ভিডিওতেই আটকে থাকেননি। তাঁর 'ভিডিও কনটেন্ট'-এর বাইরে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন 'ফিউচাবল' শপিং, স্ন্যাক্স ব্র্যান্ড, বার্গার চেইন এবং খেলনা লাইন-সহ একাধিক সফল ব্যবসা।

একইভাবে, জনপ্রিয় ভ্লগার এমা চেম্বারলেইন (Emma Chamberlain) কেবলই একজন 'ভিডিও ক্রিয়েটর' নন। তিনি ২০১৯ সালে চালু করেন তাঁর কফি কোম্পানি 'চেম্বারলেইন কফি' (Chamberlain Coffee)। এই ব্যবসাটি এখন শুধু অনলাইনে নয়, এটি এখন সুপারমার্কেট এবং বড় বড় 'রিটেল চেইন'-এও বিক্রি হচ্ছে, যার ফলে তাঁর আয়ের গ্রাফ দ্রুত বাড়ছে এবং যা তাঁর ইউটিউব চ্যানেলের 'মনিটাইজেশন'-এর ওপর নির্ভরশীল নয়।

প্ল্যাটফর্ম-নির্ভরতা থেকে মুক্তি এবং স্থায়িত্ব

যেসব 'ক্রিয়েটর' এই নতুন পথে হাঁটছেন, তাঁদের মূল কৌশলগত উদ্দেশ্য হলো এমন এক 'বিজনেস এম্পায়ার' গড়ে তোলা, যা নির্দিষ্ট কোনো প্ল্যাটফর্ম-নির্ভর নয়। এর অর্থ হলো, যদি ভবিষ্যতের কোনো সময়ে ইউটিউবের 'অ্যালগরিদম' রাতারাতি পরিবর্তিত হয় বা 'অ্যাড রেভিনিউ' হঠাৎ করে কমে যায়, তবুও তাঁদের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা ও আয়ের উৎস বহাল থাকবে। নিজেদের কনটেন্টের সঙ্গে সরাসরি নিজেদের ব্র্যান্ডকে যুক্ত করে দেওয়ায় এটি শুধু আয়ের পথই নয়, দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসায়িক স্থায়িত্বেরও পথ তৈরি করছে।

বাংলাদেশের তরুণদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

বাংলাদেশের উঠতি তরুণ ইউটিউবারদের জন্য এই পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র ভিউয়ের সংখ্যা বাড়িয়ে বিজ্ঞাপন নির্ভর আয়ের ওপর নির্ভর করা এখন আর নিরাপদ কৌশল নয়। এখন সময় এসেছে নিজস্ব পণ্যের লাইন, মার্চেন্ডাইজ (Merchandise), কিংবা অনলাইন-অফলাইন বিশেষ আয়োজনের কথা চিন্তা করার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, যারা সম্পাদকীয় কনটেন্ট তৈরি করছেন, তাঁরা এখন সেই কনটেন্টের সঙ্গে নিজেদের 'ব্র্যান্ড ভ্যালু' যুক্ত করে কনটেন্ট নির্মাতা থেকে সফল 'এন্টারপ্রেনর' হয়ে ওঠার দিকে মনোনিবেশ করছেন।