• জীবনযাপন
  • কলা কি আদৌ পুষ্টিকর? ডায়েট থেকে ডায়াবেটিস— কলার রং ভেদে পুষ্টির রহস্য ও কখন খাবেন

কলা কি আদৌ পুষ্টিকর? ডায়েট থেকে ডায়াবেটিস— কলার রং ভেদে পুষ্টির রহস্য ও কখন খাবেন

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
কলা কি আদৌ পুষ্টিকর? ডায়েট থেকে ডায়াবেটিস— কলার রং ভেদে পুষ্টির রহস্য ও কখন খাবেন

অনেকের ভুল ধারণা যে কলায় ক্যালোরি বেশি। কাঁচা থেকে অতিরিক্ত পাকা— কলার পুষ্টিগুণ কীভাবে পরিবর্তিত হয় এবং কোন কলার কী উপকারিতা, জেনে নিন বিশেষজ্ঞের মত।

কলা (Banana) শুধু সুস্বাদু নয়, বরং এটি পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ফল। কাঁচা কলা এবং পাকা কলা— উভয়ই শরীরের জন্য উপকারী। অনেকে ভুল ধারণা করেন যে, কলায় বেশি 'ক্যালোরি' (Calorie) থাকায় এটি ডায়েটের (Diet) জন্য ভালো নয়, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তবে কলার রঙের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এর পুষ্টি উপাদানেও (Nutritional Components) পরিবর্তন আসে। তাই শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক কলা বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

কলার রং ভেদে পুষ্টিগুণের পরিবর্তন

কলার রং দেখেই বোঝা যায় তাতে কী ধরনের পুষ্টি উপাদান কত পরিমাণে রয়েছে। কাঁচা কলা থেকে অতিরিক্ত পাকা কলা পর্যন্ত এর পুষ্টিগুণ কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তা নিচে আলোচনা করা হলো:

কলার ধরন রং মূল বৈশিষ্ট্য কাঁচা কলা সবুজ রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চ (Resistant Starch) বেশি, শর্করা (Sugar) কম। অ্যামিনো অ্যাসিড, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন সি, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের ভালো উৎস। পাকা কলা হলুদ রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চ শর্করার রূপান্তরিত হওয়ায় শর্করার পরিমাণ বেশি। প্রচুর পরিমাণে 'অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট' (Anti-Oxidant) থাকে। খয়েরি দাগযুক্ত কলা হলুদ ও খয়েরি দাগ এটি আরও বেশি পাকা। দাগ যত ঘন, শর্করার মাত্রা তত বেশি এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের পরিমাণও বাড়ে। অতিরিক্ত পাকা কলা সম্পূর্ণ খয়েরি সবচেয়ে বেশি পরিমাণে শর্করা ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে। হজম করা তুলনামূলকভাবে সহজ।

বিভিন্ন রোগে কলার উপকারিতা ও সতর্কতা

কলা বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতিতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে, তবে কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন:

ডায়াবেটিস (Diabetes): ডায়াবেটিস রোগীরা নির্দিষ্ট পরিমাণে কলা খেতে পারেন, তবে তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হবে। সাধারণত, দৈনিক ১০০-১৫০ গ্রাম ফল খাওয়ার নিয়ম থাকলে, তার অর্ধেক অর্থাৎ ৫০-৭৫ গ্রাম পাকা কলা খাওয়া যেতে পারে। সবুজ বা কাঁচা কলায় থাকা 'রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চ' শর্করার শোষণ ধীর করে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তুলনামূলকভাবে ভালো।

কোষ্ঠকাঠিন্য: কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে পাকা কলা খাওয়া ভালো, কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে 'ফাইবার' (Fiber) থাকে যা হজমে সাহায্য করে এবং অন্ত্রের গতি স্বাভাবিক রাখে।

পেট খারাপ (Diarrhoea): পেট খারাপ বা 'ডায়রিয়া' (Diarrhea) হলে কাঁচা কলা খাওয়া উপকারী। এটি অন্ত্রকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং মলকে শক্ত করে।

পটাশিয়ামের ঘাটতি: কলা 'পটাশিয়াম' (Potassium)-এর একটি চমৎকার উৎস। 'হাইপোক্যালেমিয়া' (Hypokalemia) রোগে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের নিয়মিত কলা খাওয়া উচিত। তবে 'রেনাল ফেলিয়োর' বা কিডনি (Kidney) সমস্যায় ভুগছেন এমন রোগীদের রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে বলা হয়, তাই তাদের জন্য কলা এড়িয়ে চলাই ভালো।

ওজন নিয়ন্ত্রণ: ওজন বাড়ানোর প্রয়োজন হলে কলা অত্যন্ত কার্যকর, কারণ এতে অন্যান্য ফলের তুলনায় বেশি ক্যালোরি থাকে। অন্যদিকে, 'ওবেসিটি' (Obesity) বা হৃদরোগের (Cardiovascular Disease) সমস্যা থাকলে অতিরিক্ত 'কার্বোহাইড্রেট' (Carbohydrate) এড়িয়ে চলতে হয়, তবে সেক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়া যেতে পারে।

কলা খাওয়ার সঠিক নিয়ম

পুষ্টির সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে কলা খাওয়ার সঠিক সময় ও পদ্ধতি জানা জরুরি:

সময়: ভারী খাবারের সঙ্গে কলা না খাওয়াই ভালো। খাবার খাওয়ার এক থেকে দেড় ঘণ্টা পরে কলা খেলে শরীর সহজে এর ফাইবার শোষণ করতে পারে। খালি পেটে না খেয়ে নাস্তার সঙ্গে বা নাস্তার পরে খাওয়া উত্তম।

বিকল্প: যারা সরাসরি কলা খেতে পছন্দ করেন না, তাদের জন্য কলার 'স্মুদি' (Smoothie), ফলের স্মুদি বা ওটসের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে।

সঠিক উপায়ে এবং পরিমাণ বুঝে কলা খেলে এটি শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী 'সুপারফুড' হয়ে উঠতে পারে।

Tags: