সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইন ও সংবিধান মানতেন না এবং বর্তমানে দেশের কোনো কোনো রাজনৈতিক দলও সেই একই পথ অনুসরণ করতে চাইছে বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খsru মাহমুদ চৌধুরী। তার এই বক্তব্যে সরকারের পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের নির্দিষ্ট কিছু দলের কর্মকাণ্ডের দিকেও সুস্পষ্ট ইঙ্গিত থাকায় রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পল্লি চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই জোরালো অভিযোগ করেন।
আইন ও সংবিধান অমান্যের অভিযোগ
আমীর খসরু তার বক্তব্যে বলেন, “যাদের বলার কথা নয়, তারাও কথা বলছে। ঐকমত্যের কথা বলে ১৪ মাস পর সনদ হলো। এখন তারা ভিন্ন কথা বলছে। তাদের সেই এখতিয়ার নাই। যাদের যে কথা বলার এখতিয়ার নাই, তারা সেই কাজ করছে, যা অসাংবিধানিক এবং বেআইনি। শেখ হাসিনা সংবিধান ও আইন মানতেন না। এখনও কোনো কোনো রাজনৈতিক দল সংবিধান ও আইন মানতে চায় না।”
কারা সেই রাজনৈতিক দল, তা তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করলেও তার বক্তব্যে এটি পরিষ্কার যে, বিরোধী রাজনৈতিক জোটের অভ্যন্তরীণ কৌশল বা অন্য কোনো দলের কর্মকাণ্ডে বিএনপি সন্তুষ্ট নয়। তার এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিরোধী শিবিরের মধ্যেকার সম্ভাব্য মতপার্থক্যের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছেন।
নির্বাচনই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়ে দেন, তার দল নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চায়। তিনি বলেন, “কেউ কেউ রাস্তায় নেমে জোর করে নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চান। নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবেন না। যারা রাস্তায় নেমে নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চায়, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চায়। নির্বাচনের মাধ্যমেই বাংলাদেশকে মুক্ত করতে হবে। এই পরিস্থিতি হলো আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম। শুধু হাসিনামুক্ত করলেই হবে না, গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে আনতে হবে।” তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, বিএনপি নির্বাচনকেন্দ্রিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতেই আস্থা রাখছে এবং রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচন বিলম্বিত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান।
ক্ষমতায় এলে অর্থনৈতিক রূপরেখা
রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা কী হবে, তারও একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা দেন আমীর খসরু। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে। এর পাশাপাশি, ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে (Trillion Dollar Economy) পরিণত করার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি, যা একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার ইঙ্গিত বহন করে।