• দেশজুড়ে
  • যশোরে জামায়াতের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে কমিটি গঠন ও সমাবেশের ঘোষণা

যশোরে জামায়াতের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে কমিটি গঠন ও সমাবেশের ঘোষণা

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
যশোরে জামায়াতের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে কমিটি গঠন ও সমাবেশের ঘোষণা

যশোর-৫ আসনে এমপি প্রার্থীর ব্যাপক গণসংযোগ; ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ও দুর্নীতিমুক্ত শাসনের প্রতিশ্রুতি

আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর-৫ (মণিরামপুর-অভয়নগর) আসনে এক ব্যতিক্রমী ও নজিরবিহীন রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটারদের কাছে টানতে এবং "ভাতৃত্বের বন্ধন" তৈরির লক্ষ্যে দলটির মনোনীত এমপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হকের নেতৃত্বে দেওয়া হচ্ছে ‘জামায়াতে ইসলামী হিন্দু শাখা’ নামের ইউনিয়ন কমিটি।

হাজিরহাটে মতবিনিময় ও নজিরবিহীন কমিটি গঠন

এই রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকালে মণিরামপুর উপজেলার ৫নং হরিদাসকাটি ইউনিয়নের হাজিরহাট বাজারে অবস্থিত জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে এক জরুরি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৫ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে অধ্যাপক ফজলুল হক মনিরামপুর উপজেলা আমীর বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী, আহসান হাবীব লিটন মনিরামপুর উপজেলা উপঃ সহঃ সেক্রেটারি, এইচ, এম শামীম উপঃ সহঃ সেক্রেটারি, মাওঃ সেলিম জাহাঙ্গীর, মাওঃ বোরহান উদ্দিন উপঃ কর্মপরিষদ সদস্য, মাওঃ রেজাউল করিম সভাপতি ৫নং হরিদাসকাটি ইউনিয়ন, মাওঃ বেলাল হোসেন সভাপতি ১৫ নং কুলটিয়া ইউনিয়ন, মাওঃ নুর উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক ৫নং হরিদাসকাটি ইউনিয়নসহ কয়েকশত সনাতনধর্মালম্বী মানুষ।

ইউনিয়ন পর্যায়ে 'হিন্দু শাখা' কমিটি গঠন

মণিরামপুর উপজেলার ৫নং হরিদাসকাটি ইউনিয়নের সভা শেষে সুব্রত রায়কে সভাপতি এবং তাপস মণ্ডলকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩৭ সদস্য বিশিষ্ট ‘জামায়াতে ইসলামী হিন্দু শাখা’র ইউনিয়ন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। একই ধারাবাহিকতায় অভয়নগর উপজেলার ২নং সুন্দলী ইউনিয়নেও ১৫ সদস্য বিশিষ্ট আরেকটি হিন্দু শাখা কমিটি গঠন করা হয়। এই উদ্যোগকে স্থানীয় অনেকে জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন শাখা কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অতীতে এই অঞ্চলে জামায়াতে ইসলামীর এমন উদ্যোগ দেখা যায়নি ।

দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়ন ও ভ্রাতৃত্বের আশ্বাস

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতায় এ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক বলেন, আমরা ঘুষ খাব না কাউকে ঘুষ খেতে দিব না, আমরা অন্যায় করব না কাউকে অন্যায় করতে দিব না, অন্যায়কারী সমর্থন ও করবো না, আমরা আপনাদের বন্ধু আমরা আপনাদের ভাই। দিনে রাতে যখনই কোন বিপদে পড়িবেন, আমাদের জানাবেন ভাই হিসেবে আপনাদের পাশে আমরা সারাক্ষণ আছি থাকবো ইনশাল্লাহ। আমাদের একবার নির্বাচিত করুন, রাস্তাঘাট টেকসই উন্নয়নশীল মানের করবো, এবং এই কাজে কোন দুর্নীতি হতে দিব না। জনগণ সকল নাগরিক সুবিধা পাবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতায় অধ্যাপক ফজলুল হক বলেন, একটা গোষ্টি ইচ্ছাকৃতভাবে আপনাদের থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে রেখেছে আমাদের জনপ্রিয়তার জন্য, কিন্তু আমরা আপনাদের দূরের কেউ নই। আপনারা কি কখনো শুনেছেন আমরা চাঁদাবাজী, অর্থ কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত আছি? এখানে উপস্থিত একটা লোকও কেউ বলতে পারবেন না আমরা কোন অন্যায় কাজের সাথে বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী দলের কেহ জড়িত আছে ? আমরা আল্লা প্রদত্ত পথে চলি, অন্যায় কোন কাজ করিনা এবং সমর্থনও করি না। একই মায়ের দুই সন্তানের মত আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলবো। বাংলা তে একটা প্রবাদ আছে, " হিন্দু মুসলিম ভাই ভাই, আমাদের ভেতর কোনো বিভেদ নাই "। অতএব আপনারা আসুন বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী পতাকার তলে, নতুন বাংলাদেশকে একটি সুন্দর ও উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে। সুব্রত রায়ের সভাপতিত্বে ও তাপস মন্ডলের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে আরো বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা দেন। আগত সকল সদস্য কর্মীবৃন্দদের করমর্দন ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ ও জনগণের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।

ঐতিহাসিক হিন্দু সমাবেশের প্রস্তুতি

এলাকাবাসীর বক্তব্যে উঠে আসে অতীতে কখনো বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী হিন্দু শাখার কোন কমিটি আমাদের এই ৯৬ এলাকাতে হয় নাই। তবে এখন যখন আমরা হিন্দু মুসলিম কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে দেশ গড়ার কাজে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি তখন আমরা আশা করি লোকে লোকারণ্য হয়ে যাবে বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী হিন্দু শাখার পতাকার তলে আগামী ১৭ই নভেম্বরের দিন অনুষ্ঠানে।

ঐতিহাসিক হিন্দু সমাবেশের প্রস্তুতি ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

এই নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী ১৭ই নভেম্বর মণিরামপুর ও অভয়নগর উপজেলার সংযোগস্থল সুন্দলী বাজারে একটি ঐতিহাসিক হিন্দু সমাবেশ ও জনসভারও আয়োজন করা হয়েছে। এই সমাবেশকে সফল করতে জামায়াতের প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর অনেকেই জানিয়েছেন, অতীতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে এ ধরনের কোনো কমিটি গঠনের নজির এই অঞ্চলে নেই। তাদের মতে, এটি একটি সম্পূর্ণ নতুন রাজনৈতিক কৌশল, যার কার্যকারিতা ভবিষ্যতই বলে দেবে।