বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন আয়কর সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইয়ে জয়ী হলেন। ২০২৩-২০২৪ অর্থবর্ষের জন্য দাখিল করা তাঁর আয়কর রিটার্ন নিয়ে আয়কর দপ্তরের আপত্তির ফলে যে বিবাদের সূত্রপাত হয়েছিল, তা অবশেষে আদালতের রায়ে নিষ্পত্তি হলো। ইনকাম ট্যাক্স অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনাল (ITAT) এই মামলায় অভিনেত্রীর পক্ষেই রায় দিয়েছে, যা তাঁকে বিপুল আর্থিক স্বস্তি এনে দিল।
বিতর্কের সূত্রপাত ঠিক কোথায়?
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩-২০২৪ অর্থবর্ষে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন তাঁর আয়কর ফাইলে মোট আয় দেখিয়েছিলেন ৩৯.৩৩ কোটি রুপি। এই আয়ের মধ্যে তাঁর বিভিন্ন বিনিয়োগ বা Investment থেকে প্রাপ্ত ২.১৪ কোটি রুপিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। পাশাপাশি, তিনি ফাইলিংয়ে ৪৯.০৮ লক্ষ রুপি 'ভলানটারি ডিসঅ্যালাওয়েন্স' (Voluntary Disallowance) হিসেবে ঘোষণা করেন।
কিন্তু অভিনেত্রীর এই হিসাবের সঙ্গে একমত হয়নি আয়কর দপ্তর। দপ্তরের পক্ষ থেকে নিযুক্ত ট্যাক্স অ্যাসেসিং অফিসার (AO) ঐশ্বরিয়ার দাখিল করা তথ্যে আপত্তি জানিয়ে একটি নোটিশ পাঠান। সেই নোটিশে, অ্যাসেসিং অফিসার ডিসঅ্যালাওয়েন্সের পরিমাণ নির্ধারণ করেন ৪.৬০ কোটি রুপি, যা ঐশ্বরিয়ার ঘোষিত অঙ্কের চেয়ে প্রায় দশ গুণ বেশি। এর ফলস্বরূপ, ঐশ্বরিয়ার মোট অ্যাসেসড ইনকাম (Assessed Income) বাড়িয়ে ৪৩.৪৪ কোটি রুপি ধার্য করা হয়, যা নিয়ে আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে চূড়ান্ত স্বস্তি
অ্যাসেসিং অফিসারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ঐশ্বরিয়া প্রথমে যুক্তি সহকারে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। কিন্তু তাঁর সেই যুক্তি অ্যাসেসিং অফিসার খারিজ করে দিলে তিনি বাধ্য হয়ে ইনকাম ট্যাক্স অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনাল (ITAT)-এর দ্বারস্থ হন।
সম্প্রতি এই মামলার শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল ঐশ্বরিয়ার আবেদনকেই মান্যতা দিয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ায় ITAT পর্যবেক্ষণ করে যে, অভিনেত্রীর বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি সঠিকভাবে খতিয়ে না দেখেই অ্যাসেসিং অফিসার তাঁর দাবি খারিজ করেছিলেন। ট্রাইব্যুনালের মতে, AO-এর এই সিদ্ধান্ত ছিল একতরফা এবং অপর্যাপ্ত পর্যালোচনার উপর ভিত্তি করে নেওয়া। চূড়ান্ত রায়ে ট্রাইব্যুনাল অ্যাসেসিং অফিসারের নির্দেশ খারিজ করে দেয় এবং ঐশ্বরিয়ার দাখিল করা আয়কর রিটার্নকেই বৈধতা দেয়।
বর্তমানে ঐশ্বরিয়া রায় বচ্চন চলচ্চিত্রে আগের তুলনায় কম থাকলেও বিশ্বের তাবড় ব্র্যান্ডের প্রচার মুখ এবং কান চলচ্চিত্র উৎসবের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি আগের মতোই উজ্জ্বল। এই আইনি জয় তাঁর পেশাগত জীবনে নিঃসন্দেহে একটি বড় স্বস্তি বয়ে আনল।