** জ্বর, ব্যথা: প্যারাসিটামল কি জাদুকরী সমাধান?**
আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জ্বর, সর্দি, গলাব্যথা—এসব সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যার সহজ সমাধান হিসেবে ঘরে ঘরে প্রথম যে ওষুধটির দিকে হাত বাড়ানো হয়, সেটি হলো প্যারাসিটামল (Paracetamol)। ডেঙ্গু জ্বরের মতো গুরুতর ক্ষেত্রেও চিকিৎসকরা এই ওষুধটি প্রেসক্রাইব (Prescribe) করেন। কিন্তু এই বহুল ব্যবহৃত ওষুধটি আসলে কতটা নিরাপদ এবং দৈনিক এর ডোজের সীমা কত, তা না জানা থাকলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
কলকাতার বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. আশিস মিত্র এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন।
নিরাপদ ডোজ কত? ৪ ঘণ্টা অন্তর সর্বোচ্চ ৬টি
ডা. আশিস মিত্রের মতে, একজন সুস্থ-সবল ব্যক্তি দৈনিক সর্বোচ্চ ৬টি প্যারাসিটামল খেতে পারেন। তবে এর মাঝে ৪ ঘণ্টা অন্তর অন্তর ওষুধটি খাওয়া নিরাপদ। তিনি আরও জানান, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দৈনিক ৪টি প্যারাসিটামল খেলেই জ্বর নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
ওজন ও ডোজ: সাধারণত, ওজন ৬০ কেজি-এর কম হলে প্যারাসিটামল ৫০০ মি.গ্রা. এবং ওজন ৬০ কেজি-এর বেশি হলে প্যারাসিটামল ৬৫০ মি.গ্রা. খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
নিয়ম: জ্বর এলে তবেই প্যারাসিটামল খাওয়া উচিত। জ্বর কমে গেলে বা জ্বর না এলে এই ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি, খালি পেটে এই ওষুধ খাওয়া চলবে না; অল্প কিছু খাবার খাওয়ার পর জল দিয়ে গিলে নিতে হবে।
ওভারডোজের চরম ঝুঁকি: লিভার ফেইলিওর
বিশেষজ্ঞরা প্যারাসিটামলের অতিরিক্ত ব্যবহার (Overdose) সম্পর্কে মারাত্মক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
গবেষণার ফল: স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, প্যারাসিটামলের অতিরিক্ত ব্যবহার লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। অতিরিক্ত সেবনে লিভার ফেইলিওর (Liver Failure) পর্যন্ত হতে পারে।
আন্তর্জাতিক ডেটা: ২০০৬ সালে যুক্তরাজ্যে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, দেশটিতে লিভার বিকলের অন্যতম প্রধান কারণ প্যারাসিটামলের ওভারডোজ। একই চিত্র পাওয়া গেছে যুক্তরাষ্ট্রেও।
জ্বর থেকে দ্রুত সারতে লাইফস্টাইল গাইডলাইন
প্যারাসিটামল খাওয়ার পাশাপাশি দ্রুত সুস্থ হতে কিছু লাইফস্টাইল গাইডলাইন মেনে চলা জরুরি:
১. প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ৩ লিটার পানি পান করুন। ২. হালকা সহজপাচ্য খাবার খান। ৩. প্রতিদিনের পাতে শাক, সবজি এবং ফল রাখুন। ৪. মদ্যপান ও ধূমপান থেকে কঠোরভাবে দূরে থাকুন।
তবে এসব নিয়ম মেনে চলার পরও যদি ৩-৪ দিনের বেশি জ্বর থাকে, তাহলে কালবিলম্ব না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।