শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা এবং শারীরবৃত্তীয় কাজ স্বাভাবিক রাখার জন্য পানি অপরিহার্য। তবে রাতে ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত পানি পান করলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণা এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, রাতের নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের জন্য পানি পানের অভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি।
রাতে পানির প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা শরীরের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঠিকভাবে সচল রাখতে নিয়মিত পানি প্রয়োজন। ঘুমের মধ্যেও শ্বাস-প্রশ্বাস ও ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে কিছুটা পানি বেরিয়ে যায়। তাই ঘুমানোর আগে সামান্য পানি পান করা অপ্রয়োজনীয় নয়। এটি শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দেয়। ফলে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং প্রতিটি কোষে যথাযথভাবে অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে। ২০১৫ সালে পাবমেড সেন্ট্রালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমানোর আগে অল্প পানি পান করলে পরদিন সকালে মন সতেজ থাকে।
অতিরিক্ত পানি পানে ঘুমের ব্যাঘাত (নকচুরিয়া) সমস্যা তখনই শুরু হয় যখন রাতে ঘুমের মধ্যে বারবার প্রস্রাবের বেগ আসে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় 'নকচুরিয়া' (Nocturia)। সন্ধ্যার পর থেকে অতিরিক্ত তরল গ্রহণ করলে এই সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে গেলে শরীরের গভীর বিশ্রামের প্রক্রিয়াটি ব্যাহত হয়। এর ফলে পরদিন শরীরে ক্লান্তি, ঝিমুনি এবং কাজে মনোযোগের অভাব দেখা দিতে পারে।
কখন এবং কতটা পানি পান করবেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে পানি পান করা শেষ করা উচিত। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিমাণ। ঢক ঢক করে অনেক বেশি পানি পান না করে বরং অল্প পরিমাণে চুমুক দিয়ে পানি খাওয়া ভালো। বিশেষ করে যাদের বয়স ৬০ বছরের বেশি, তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সতর্কতার দাবি রাখে। কারণ বয়সের কারণে ঘুমের গুণমান এমনিতেই কিছুটা সংবেদনশীল থাকে।
যাদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন যাদের ঘুমের মধ্যে মুখ শুকিয়ে যায় বা রাতে পায়ের পেশিতে টান ধরে, তারা ঘুমানোর আগে অল্প পানি খেতে পারেন। তবে নিয়মিত এমন সমস্যা হলে ঘরোয়া টোটকার বদলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
উপসংহার পর্যাপ্ত পানি পান সুস্থতার চাবিকাঠি হলেও সময়ের জ্ঞান থাকা জরুরি। রাতের ঘুম যেন নিরবচ্ছিন্ন ও প্রশান্ত হয়, সেজন্য ঘুমানোর ঠিক আগমুহূর্তে পানি পানের অভ্যাস বর্জন করে বিশেষজ্ঞদের নির্দেশিত নিয়ম মেনে চলা উচিত।