• দেশজুড়ে
  • ৬ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, হাইকোর্টে রিট; আইনি লড়াইয়ের মুখে ঢাকা-গাজীপুরসহ ছয় নগরী

৬ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, হাইকোর্টে রিট; আইনি লড়াইয়ের মুখে ঢাকা-গাজীপুরসহ ছয় নগরী

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
৬ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, হাইকোর্টে রিট; আইনি লড়াইয়ের মুখে ঢাকা-গাজীপুরসহ ছয় নগরী

স্থানীয় সরকার সচিব ও নির্বাচন কমিশনকে বিবাদী করে উচ্চ আদালতে আবেদন; গত ২২ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি সিটি করপোরেশনে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগের সরকারি সিদ্ধান্ত এখন উচ্চ আদালতের কাঠগড়ায়। বুধবার (৪ মার্চ) এই নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে (High Court) একটি রিট পিটিশন (Writ Petition) দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের ছয়জন আইনজীবী। এই আইনি পদক্ষেপের ফলে সিটি করপোরেশনগুলোর প্রশাসনিক কাঠামো ও মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয়টি নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়ল।

আদালতে চ্যালেঞ্জ ও বিবাদীপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে দায়ের করা এই রিটে স্থানীয় সরকার সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনসহ (Election Commission) সংশ্লিষ্টদের বিবাদী (Respondent) করা হয়েছে। রিটকারীদের দাবি, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আইনি অসংগতি রয়েছে এবং এটি গণতান্ত্রিক ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। উল্লেখ্য, গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ, খুলনা, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে এই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা হলেন: ১. মো. আব্দুস সালাম (ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন) ২. মো. শফিকুল ইসলাম খান (ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন) ৩. নজরুল ইসলাম মঞ্জু (খুলনা সিটি করপোরেশন) ৪. আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী (সিলেট সিটি করপোরেশন) ৫. মো. সাখাওয়াত হোসেন খান (নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন) ৬. মো. শওকত হোসেন সরকার (গাজীপুর সিটি করপোরেশন)

অধ্যাদেশ ও আইনি মারপ্যাঁচ সরকার ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর ধারা ২৫ক-এর উপধারা (১)-এর ক্ষমতাবলে এই নিয়োগ দিয়েছিল। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছিল যে, নতুন করপোরেশন গঠন না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই প্রশাসকরা সংশ্লিষ্ট নগরীর পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালন করবেন। আইন অনুযায়ী, তারা নির্বাচিত মেয়রের সমান ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছেন। মূলত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অবর্তমানে প্রশাসনিক কাজ গতিশীল করতেই এই ‘Interim’ বা অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া প্রশাসক নিয়োগের শুরু থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ারসহ অন্যান্য নেতারা। তাদের মতে, জনপ্রতিনিধিহীন এই ব্যবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়া স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার জন্য শুভকর নয়।

এই রিট আবেদনের মাধ্যমে এখন আইনি ফয়সালার পথ প্রশস্ত হলো। হাইকোর্টের কোনো বেঞ্চে এই আবেদনের ওপর শুনানি হবে, তা এখনো নির্ধারিত না হলেও বিষয়টি নিয়ে দেশের সচেতন মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যদি আদালত এই নিয়োগের ওপর কোনো স্থগিতাদেশ (Stay Order) দেয়, তবে ছয়টি বড় নগরীর প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা আসার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।