• মতামত
  • বাংলাদেশে সিরামিক শিল্পে উজ্জ্বলতম সম্ভাবনা: টেকনোলজি, গ্রিন ম্যানুফ্যাকচারিং ও ডিজাইন হবে ভবিষ্যতের গেম চেঞ্জার

বাংলাদেশে সিরামিক শিল্পে উজ্জ্বলতম সম্ভাবনা: টেকনোলজি, গ্রিন ম্যানুফ্যাকচারিং ও ডিজাইন হবে ভবিষ্যতের গেম চেঞ্জার

মতামত ১ মিনিট পড়া
বাংলাদেশে সিরামিক শিল্পে উজ্জ্বলতম সম্ভাবনা: টেকনোলজি, গ্রিন ম্যানুফ্যাকচারিং ও ডিজাইন হবে ভবিষ্যতের গেম চেঞ্জার

ডিবিএল গ্রুপ-এর ভাইস চেয়ারম্যান এম এ রহিম-এর বিশ্লেষণ: sTiles-এর মতো উদ্ভাবন ও জিরো ওয়েস্ট পলিসিতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হওয়ার লক্ষ্য।

সিরামিক শিল্পের ভবিষ্যৎ: টেকনোলজিক্যাল ট্রানজিশন

এম এ রহিম, ভাইস চেয়ারম্যান, ডিবিএল গ্রুপ-এর সাক্ষাৎকার

সিরামিক শিল্পে বাংলাদেশের সম্ভাবনা দিন দিন বাড়ছে এবং সঠিক রাষ্ট্রীয় সহায়তা পেলে এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করেন ডিবিএল গ্রুপে-এর ভাইস চেয়ারম্যান এম এ রহিম। তাঁর মতে, আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে টাইলস ও সিরামিকস খাতে যে পরিবর্তন আসবে, তা মূলত তিনটি প্রধান দিককে কেন্দ্র করে হবে—প্রযুক্তিগত রূপান্তর (Technological Transformation), গ্রিন ম্যানুফ্যাকচারিং (Green Manufacturing) ও ডিজাইন ইনোভেশন (Design Innovation)।

অটোমেশন থেকে স্মার্ট টাইলস: প্রযুক্তির বিপ্লব

এম এ রহিম মনে করেন, শিল্পে প্রযুক্তির ব্যবহার ভবিষ্যৎকে পুরোপুরি বদলে দেবে। অটোমেশন (Automation), উন্নত ডিজিটাল প্রিন্টিং, রোবোটিক হ্যান্ডলিং এবং উন্নতমানের প্রোডাকশন লাইনের মাধ্যমে উৎপাদন আরও দ্রুত, নির্ভুল এবং খরচ সাশ্রয়ী (Cost-Effective) হবে।

তিনি জোর দেন, স্মার্ট টাইলস (Smart Tiles) এবং সেন্সর ইন্টিগ্রেটেড পণ্যের (Sensor Integrated Products) বিশ্বব্যাপী যে জনপ্রিয়তা বাড়ছে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বাজারেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। ডিবিএল সিরামিকস এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইতালিয়ান সর্বাধুনিক মেশিনারি ও টেকনোলজি ব্যবহার করছে।

গ্রিন ম্যানুফ্যাকচারিং: ভবিষ্যতের স্ট্যান্ডার্ড

পরিবেশবান্ধব উৎপাদন পদ্ধতি ভবিষ্যতের শিল্পের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে। এম এ রহিম-এর মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং বৈশ্বিক রেগুলেশনগুলো বিবেচনায় এখন গ্রিন ম্যানুফ্যাকচারিং আর ‘অপশন’ নয়, এটি একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড’।

টেকসই নীতি: ভবিষ্যতে কার্বন ফুটপ্রিন্ট (Carbon Footprint) কমানো, ওয়েস্ট হিট রিকভারি (Waste Heat Recovery), জিরো ওয়েস্ট নীতি (Zero Waste Policy) এবং পানির পুনর্ব্যবহার বাধ্যতামূলক হয়ে উঠবে।

sTiles উদ্ভাবন: ডিবিএল সিরামিকস তাদের ইনোভেশন কালচারের (Innovation Culture) উদাহরণ হিসেবে sTiles-এর কথা উল্লেখ করে। এই উদ্ভাবনে উৎপাদনের সময় তৈরি হওয়া ফাইন ডাস্ট (Fine Dust) পুনর্ব্যবহার করে একটি সম্পূর্ণ নতুন পণ্যশ্রেণি তৈরি করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ডিবিএল শুধু পরিবেশ রক্ষা করছে না, শক্তি খরচও কমাচ্ছে এবং উৎপাদন দক্ষতাও (Production Efficiency) বাড়াচ্ছে।

প্রতিযোগিতামূলক বাজারের মূল শক্তি: ডিজাইন ও ব্র্যান্ড ভ্যালু

ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা শুধু দামে হবে না; হবে মান, প্রযুক্তি এবং টেকসই মূল্যবোধে। ডিবিএল সিরামিকস মনে করে, তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো উদ্ভাবনী চিন্তাধারা এবং টেকসই উৎপাদনের সক্ষমতা।

ডিজাইন ইনোভেশন: আজকের ক্রেতা শুধু দাম নয়, পণ্যের নান্দনিকতা (Aesthetics), টেকসই বৈশিষ্ট্য এবং ব্র্যান্ড ভ্যালুর ওপর গুরুত্ব দেন। ডিজাইন ইনোভেশন আগামী দিনের বাজারে গেম চেঞ্জার (Game Changer) হতে চলেছে।

সাশ্রয়ী মূল্যের কৌশল: কাঁচামাল ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলায় ডিবিএল cost optimization ও energy efficiency-এর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। তারা waste heat recovery system ব্যবহার করে গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাচ্ছে।

ভবিষ্যৎ ভিশন: গ্লোবাল ব্র্যান্ড হওয়ার লক্ষ্য

ডিবিএল সিরামিকসের লক্ষ্য খুব স্পষ্ট—আগামী কয়েক বছরের মধ্যে শুধু বাংলাদেশের শীর্ষ ব্র্যান্ড না হয়ে একটি গ্লোবাল ব্র্যান্ড (Global Brand) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া।

এই লক্ষ্যে তারা রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য শ্রীহট্ট ইকোনমিক জোনে নতুন ফ্যাক্টরি স্থাপন করছে। এই ফ্যাক্টরিটি হবে সম্পূর্ণ গ্রিন ম্যানুফ্যাকচারিং মডেলে তৈরি। ডিবিএল সিরামিকসের ভিশন (Vision) হলো: ‘To build a sustainable future through innovative and responsible ceramic solutions.’