• জাতীয়
  • আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না আওয়ামী লীগ: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না আওয়ামী লীগ: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না আওয়ামী লীগ: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

ব্রিটিশ মন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ড. ইউনূসের স্পষ্ট ঘোষণা; সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় ইসির তালিকা থেকে বাদ পড়েছে দলটি।

আ.লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধের ঘোষণা

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে (National Election) আওয়ামী লীগ (Awami League) অংশ নিতে পারবে না বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক ব্রিটিশ মন্ত্রী ব্যারোনেস জেনি চ্যাপম্যানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই তথ্য জানান।

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ব্যাখ্যা করেন, ‘আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসবিরোধী আইনের (Anti-Terrorism Act) আওতায় রয়েছে। তাদের সমস্ত কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত। এই আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে নির্বাচন কমিশন (EC) দলটিকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর তালিকা থেকেও বাদ দিয়েছে।’ ফলে, দলটি আগামী সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আইনি অধিকার হারাচ্ছে।

ব্রিটিশ মন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক (Free, Fair, and Inclusive) করার বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। উভয় নেতা ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচন, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ (Illegal Migration Prevention), বাণিজ্য সম্প্রসারণ (Trade Expansion), রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা, এবং বিমান ও সামুদ্রিক খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির মতো একাধিক কৌশলগত ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন।

মন্ত্রী চ্যাপম্যান ঢাকা ও লন্ডনের মধ্যে বাণিজ্য ও সহযোগিতা (Bilateral Cooperation) আরও দৃঢ় করার সম্ভাবনার ওপর জোর দেন। তিনি জানান, বিমান চলাচল খাতে (Aviation Sector) সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে এয়ারবাস ইন্টারন্যাশনালের (Airbus International) প্রধান শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন। প্রধান উপদেষ্টা এই প্রসঙ্গে জানান, বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক গবেষণার (Maritime Research) সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে একটি গবেষণা জাহাজ ক্রয় করছে।

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন, নজর তরুণ ভোটারদের দিকে

নির্বাচনের সময়রেখা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নির্বাচন হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক (Participatory), এবং ভোটার উপস্থিতি হবে ব্যাপক (Massive Voter Turnout)।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘লাখো তরুণ প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। গত ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের (Autocracy) তিনটি সাজানো নির্বাচনে তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল না। কিন্তু এবার গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই প্রক্রিয়ায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।’ এই ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি একটি নতুন রাজনৈতিক ইতিহাসের সূচনা করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতি

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, এসডিজি (SDG) সমন্বয়কারী লামিয়া মরশেদ। এছাড়াও, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুক এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সংলাপে অংশ নেন।