• জাতীয়
  • ভোলার গ্যাসেই গড়ে উঠবে নতুন সার কারখানা, আমদানি নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ সরকারের

ভোলার গ্যাসেই গড়ে উঠবে নতুন সার কারখানা, আমদানি নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ সরকারের

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
ভোলার গ্যাসেই গড়ে উঠবে নতুন সার কারখানা, আমদানি নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ সরকারের

জেলার বিশাল গ্যাসভান্ডার কাজে লাগিয়ে কৃষি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু, জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়নের আশা।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলে জ্বালানি হাব হিসেবে পরিচিত ভোলার বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাসকে কাজে লাগিয়ে একটি অত্যাধুনিক ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের পথে হাঁটছে সরকার। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশের কৃষিখাতকে শক্তিশালী করার এই বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল প্রকল্পটির জন্য প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেছে। এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের সার উৎপাদনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের নেতৃত্বে এই পরিদর্শনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন। তারা ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় কারখানা স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত দুটি স্থান সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন।

জাতীয় উন্নয়নে ভোলার গ্যাস

পরিদর্শন শেষে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান সাংবাদিকদের বলেন, "ভোলায় প্রচুর গ্যাস মজুদ রয়েছে, যা দেশের অন্য কোনো জেলায় নেই। আমরা ভোলার এই অমূল্য সম্পদকে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, বিশেষ করে কৃষিখাতের অগ্রগতিতে কাজে লাগাতে চাই।" তিনি নিশ্চিত করেন যে, সার কারখানা স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই (Feasibility Study) প্রক্রিয়া চলছে এবং পরিবেশগত ও অবকাঠামোগত সকল দিক অনুকূলে থাকলে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই মূল প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার একদিকে যেমন স্থানীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাইছে, তেমনই দেশের ক্রমবর্ধমান সারের চাহিদা মিটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের একটি টেকসই পথ তৈরি করতে আগ্রহী।

সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের নতুন মডেল

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী দিক হলো, এর জন্য নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নাও হতে পারে। এ বিষয়ে শিল্প উপদেষ্টা বলেন, "আমরা ইতোমধ্যে দুটি সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছি। এর ফলে ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা এড়ানো সম্ভব হলে প্রকল্পের নির্ধারিত সময় ও ব্যয় উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।"

প্রতিনিধি দলটি স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরিবেশের ওপর প্রভাব, সড়ক ও নদীপথে পণ্য পরিবহনের সুবিধা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের Infrastructure-সহ সকল কৌশলগত দিক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। খুব শীঘ্রই পর্যালোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়।

সমন্বিত পদক্ষেপে স্বনির্ভরতার পথে যাত্রা

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা এবং বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টার উপস্থিতি এই প্রকল্পকে সরকারের একটি সমন্বিত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিক উদ্যোগ হিসেবে প্রমাণ করে। তারা জানান, কৃষিখাতে সার উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং আমদানি নির্ভরতা হ্রাস করা সরকারের একটি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। ভোলার এই নতুন কারখানা সেই লক্ষ্য পূরণে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

পরিদর্শনকালে তিনটি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভোলার জেলা প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন। স্থানীয় প্রশাসন সম্ভাব্য স্থান, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং পরিবেশগত প্রভাব সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য উপদেষ্টাদের সামনে উপস্থাপন করে।