• দেশজুড়ে
  • ফেনীতে শিক্ষাঙ্গনে কলঙ্ক: একাধিক ছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

ফেনীতে শিক্ষাঙ্গনে কলঙ্ক: একাধিক ছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
ফেনীতে শিক্ষাঙ্গনে কলঙ্ক: একাধিক ছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

একের পর এক অভিযোগে উত্তাল দাগনভূঞা, মামলার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত শিক্ষক; তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে কঠোর পদক্ষেপ প্রশাসনের।

শিক্ষাঙ্গনের পবিত্রতা কলুষিত করার এক গুরুতর অভিযোগে ফেনীর দাগনভূঞায় এক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত মঈন উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর এবং ভুক্তভোগী এক ছাত্রের মায়ের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। অভিযুক্ত মঈন উদ্দিন উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের দক্ষিণ নেয়াজপুর মকবুল আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শহীদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অভিযোগের সূত্রপাত ও মামলার বৃত্তান্ত

ইউএনও স্বাক্ষরিত বরখাস্তের আদেশে জানানো হয়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মঈন উদ্দিন চৌধুরী ফেনী শহরের মহিপাল চাড়িপুর এলাকায় তার নিজের বাসার এক ভাড়াটিয়ার ১২ বছর বয়সী স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে কৌশলে যৌন নিপীড়ন করেন। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় মঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক আত্মগোপনে চলে যান।

ফুঁসে ওঠা জনরোষ ও তদন্ত

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় এলাকাবাসী, অভিভাবক এবং দক্ষিণ নেয়াজপুর মকবুল আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বিদ্যালয় থেকে স্থায়ী অপসারণের দাবিতে তারা মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এবং সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচী পালন করেন। শুধু তাই নয়, ভুক্তভোগী আরও একাধিক পরিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন, যার নেতৃত্বে ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, মামলার পর থেকে প্রধান শিক্ষক মঈন উদ্দিন বিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত রয়েছেন এবং তিনি পলাতক জীবনযাপন করছেন। এই তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই উপজেলা প্রশাসন তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় এবং আদেশের কপি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে প্রেরণ করে।

পুরনো অভিযোগ ও ক্ষুব্ধ সহকর্মীরা

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক মঈন উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার তার বিরুদ্ধে ছাত্রদের যৌন হয়রানি, আর্থিক অনিয়মসহ নানা গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল। এমনকি, অতীতে কয়েকবার বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে বলেও জানা গেছে।

প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের গভীর ক্ষোভের সঙ্গে জানান, “প্রধান শিক্ষকের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে বারবার বিদ্যালয় ও এলাকায় আন্দোলন হয়েছে। তার কারণে আমাদের পুরো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। নৈতিকতার দিক বিবেচনা করলে তিনি আর এই বিদ্যালয়ে থাকতে পারেন না।”

একই সুরে সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. ফারুক হোসেন বলেন, “এই ঘটনার পর থেকে অভিভাবকরা लगातार বিদ্যালয়ে এসে খোঁজখবর নিচ্ছেন। মঈন উদ্দিন যদি বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন, তবে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে।”

আপাতত বরখাস্ত হলেও, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার এবং আইন অনুযায়ী কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক মহল।