একসময় স্ট্রোককে বয়স্কদের রোগ বলে মনে করা হলেও, বর্তমানে মিলেনিয়াল এবং জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে এর প্রকোপ alarming rate-এ (উদ্বেগজনক হারে) বাড়ছে। ক্রমাগত সাফল্যের পেছনে ছুটে বেড়ানো এবং জীবনযাত্রার মারাত্মক ভুলের কারণেই এই দুই প্রজন্মের মানুষ এখন মারাত্মক Health Risk (স্বাস্থ্যঝুঁকি)-এর সম্মুখীন।
ঢাকার পপুলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নওসাবাহ্ নূরের মতে, মিলেনিয়াল (১৯৮১-১৯৯৬ সালে জন্ম) এবং জেন-জি (১৯৯৭-২০১২ সালে জন্ম) উভয় প্রজন্মই Career Growth (ক্যারিয়ারের সাফল্য) এবং জীবন গড়ার লড়াইয়ে যেভাবে জীবনযাপন করছেন, তাতেই বাড়ছে স্ট্রোকের ঝুঁকি।
১. ঘুমহীন রাত ও মানসিক চাপ: নীরব ঘাতক
ডা. নওসাবাহ্ নূর-এর মতে, সুস্থতার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো রাতের নিরুদ্বেগ ও প্রশান্তিদায়ক ঘুম। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। কিন্তু এই দুই প্রজন্মের অনেকেই পড়াশোনা, পেশাগত কাজ, অতিরিক্ত Digital Engagement (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময়যাপন) এবং Career Pressure (ক্যারিয়ারের চাপ)-এর কারণে রাত জাগছেন। ক্রমাগত মানসিক চাপে থাকায় অনেকে আবার Insomnia (ঘুমের সমস্যা)-তেও ভোগেন। অপর্যাপ্ত ঘুম এবং দীর্ঘস্থায়ী Stress (চাপ) হলো স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ানোর প্রধান কারণ।
২. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রবণতা
কম বয়সে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ার আরেকটি প্রধান কারণ হলো খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন। এই দুই প্রজন্মের মানুষের মধ্যে Processed Food (প্রক্রিয়াজাত খাবার) এবং Refined Food (পরিশোধিত খাবার) গ্রহণের প্রবণতা বেড়েছে। এই ধরনের খাবার Nutrition (পুষ্টি)-র দিক থেকে স্বাস্থ্যকর নয়।
পাশাপাশি, রান্না-বান্নার ঝামেলা এড়াতে অনেকেই প্রায়ই বাইরের Junk Food বা ফাস্ট ফুড খেয়ে নিচ্ছেন। অনেক দোকানেই নিম্নমানের এবং Unhealthy Oil (অস্বাস্থ্যকর তেল) ব্যবহার করা হয়, যা শরীরের রক্তনালীগুলোতে Cholesterol (কোলেস্টেরল) জমতে সাহায্য করে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
৩. অলসতা ও ধূমপানের নতুন সংস্কৃতি
দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা: অনেকেই বর্তমানে Desk Job (ডেস্ক জব) বা দীর্ঘ সময় ধরে বসে কাজ করেন। একটানা Sedentary Lifestyle (বসে থাকার অভ্যাস)-এর কারণে শরীরের Circulation (রক্ত সঞ্চালন) ব্যাহত হয় এবং এটি নানা প্রকার স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। তাই নিয়মিত Physical Activity (শরীরচর্চা) এবং কাজের মাঝে সচল থাকা আবশ্যক।
প্রকাশ্যে ধূমপান: একসময় ছিল যখন সামাজিক কারণে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি বা নারীদের সামনে অনেকেই ধূমপান করতেন না। কিন্তু বর্তমানে প্রকাশ্যেই ধূমপান একটি Social Norm (সামাজিক প্রথা)-এর মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ধূমপানের পরিমাণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি উভয়ই বাড়ছে। ধূমপান সরাসরি Blood Pressure (রক্তচাপ) বাড়ায় এবং স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান Risk Factor (ঝুঁকি উপাদান)।
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে যা করণীয়: জীবনধারার জরুরি পরিবর্তন
চিকিৎসক ডা. নওসাবাহ্ নূর জোর দিয়ে বলেছেন, Life Style (জীবনধারা)-এর পরিবর্তনই স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর একমাত্র উপায়।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: উদ্ভিজ্জ খাবার (Plant-based Food) গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
সচলতা ও শরীরচর্চা: নিয়মমাফিক শরীরচর্চা করুন। একটানা বসে না থেকে কাজের মাঝে মাঝে বিরতি নিন, চেয়ার ছেড়ে উঠুন এবং নিজেকে সচল রাখুন।
মানসিক প্রশান্তি: মনে রাখতে হবে, সাফল্যের চেয়ে Mental Peace (সুখ) বড়। মানসিক চাপ কমাতে সময় করে ঘুরতে যান, প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটান। নিয়মিত প্রিয়জনকে সময় দিন এবং সম্পর্কের যত্ন নিন।
সুষ্ঠু ঘুম: অবশ্যই প্রতিদিন প্রাপ্তবয়স্কের জন্য নির্ধারিত সাত থেকে নয় ঘণ্টা Quality Sleep (মানসম্মত ঘুম) নিশ্চিত করুন।