• দেশজুড়ে
  • ‘রাজনীতির জায়গায় রাজনীতি, ধর্মের জায়গায় ধর্ম’: দিনাজপুর জনসভায় জামায়াতে ইসলামীকে বার্তা দিলেন ডা. জাহিদ

‘রাজনীতির জায়গায় রাজনীতি, ধর্মের জায়গায় ধর্ম’: দিনাজপুর জনসভায় জামায়াতে ইসলামীকে বার্তা দিলেন ডা. জাহিদ

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
‘রাজনীতির জায়গায় রাজনীতি, ধর্মের জায়গায় ধর্ম’: দিনাজপুর জনসভায় জামায়াতে ইসলামীকে বার্তা দিলেন ডা. জাহিদ

‘কোনো মার্কায় ভোট দিয়ে বেহেশতে যাওয়া যাবে না, আমলই নির্ধারণ করবে পরিণতি’; ভোটারের আস্থা অর্জনে শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান তারেক রহমানের।

রাজনীতি এবং ধর্মকে কঠোরভাবে পৃথক রাখার ওপর জোর দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রফেসর ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, "কোনো মার্কায় ভোট দিয়ে বেহেশতে যাওয়া যাবে না। আমাদের আমলই পারে আমাদেরকে দোযখে যাবো নাকি, বেহেশতে যাব ঠিক করতে। আমাদের ধর্মীয় পরিচয়কে আলাদা রাখতে হবে। রাজনীতির জায়গায় রাজনীতি থাকবে, ধর্মের জায়গায় ধর্ম।"

শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকেল ৫টায় দিনাজপুর শিশু একাডেমি মিলনায়তনে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক জরুরি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর সদর-৩ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সম্ভাব্য অংশগ্রহণ উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।

ধর্মকে নিয়ে রাজনীতি না করার বার্তা

জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. জাহিদ হোসেন ধর্মভিত্তিক রাজনীতির (Religious Politics) সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কিছু মহল প্রচার করছে যে অমুক মার্কায় সিল দিলে অমুক জায়গায় যাওয়ার টিকিট পাওয়া যাবে। এই ধরনের বক্তব্যের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, "দয়া করে ধর্মকে নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করবেন না... আপনি বলবেন আলহামদুলিল্লাহ, টিকিট যদি দেয় টিকিট দিবে আমার আমল, টিকিট কোনো অবস্থাতেই ভোটের সিল আপনাকে দিবে না।" তার মতে, একজন ব্যক্তির আমলই তার পরকালের পরিণতি নির্ধারণ করবে।

ভোটারের আস্থা অর্জনই মূল লক্ষ্য

তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ভোটারের আস্থা অর্জন করা (Gaining Voter Trust) অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “কারও কথাবার্তা, বাচনভঙ্গি, চেহারা কারও একটু কম পছন্দ হতে পারে, সে হয়ত আমাদের খুবই ত্যাগী নেতাকর্মী। দলে সব ধরনের নেতাকর্মীর প্রয়োজন আছে।” তবে ভোটের মাঠে জনগণের আস্থা অর্জনে এমন নেতাকর্মীদের সামনে নিয়ে আসতে হবে, যাদের দেখলে ভোটাররা আস্থা পায় এবং ঐক্যবদ্ধ হয়।

সহনশীল আচরণে খালেদা জিয়ার দাওয়াত

ডা. জাহিদ হোসেন নেতাকর্মীদের প্রতি সহনশীল আচরণ (Tolerant Behavior) এবং শালীনতাবোধ (Decency) বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বান/দাওয়াত জনগণের কাছে এমনভাবে পৌঁছে দিতে হবে যেন মানুষের মধ্যে বিশ্বাস জন্মায়।

তিনি বলেন, যার জন্য ভোট চাওয়া হচ্ছে, তিনি কোনো সাধারণ নেত্রী নন। তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয়, সবচেয়ে বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, যিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের (বীর উত্তম) সহধর্মিণী। তিনি কর্মীদের স্মরণ করিয়ে দেন, “আপনার উপস্থাপনা দেখে মানুষ যেন মনে করে সত্যি সত্যি খালেদা জিয়ার ছেলে, খালেদা জিয়ার জন্য ভোট চাচ্ছে। সত্যি সত্যি দেশকে এরা আগামী দিনে সেবা করতে পারবে।”

এছাড়াও, তিনি বিগত সময়ের রাজনৈতিক সহিংসতার সমালোচনা করে বলেন, আওয়ামী লীগ ১৭৪ দিন হরতাল করে, গান পাউডার দিয়ে মানুষ হত্যা করেছিল। আবার কিছুদিন আগে লকডাউন ঘোষণায় আগুন দিয়ে গাড়ি পুড়িয়েছে ও মানুষ মেরেছে। তিনি বলেন, "আমরা ওইসব দিন আর দেখতে চাই না, ফিরে যেতে চাই মানুষের অধিকার বাস্তবায়ন করার জন্য।"

জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচির সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোকছেদ আলী মঙ্গোলিয়া, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. মোকাররম হোসেন, সহ-সভাপতি মাহবুব আহমেদ প্রমুখ। জেলা বিএনপি ও এর সব অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরাও বক্তব্য রাখেন।