ভারতীয় ক্রিকেটের আঙিনায় যেন এক নতুন উল্কার আগমন। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই একের পর এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলে যিনি সাড়া ফেলে দিয়েছেন, তার নাম বৈভব সূর্যবংশী। আইপিএলে সুযোগ পাওয়া থেকে শুরু করে ভারতের বয়সভিত্তিক দলের হয়ে বিশ্বরেকর্ড, সবকিছুই করে ফেলেছেন এই তরুণ। সম্প্রতি এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্স টুর্নামেন্টে তার ব্যাট থেকে বেরিয়েছে ৪২ বলে ১৪৪ রানের এক প্রলয়ংকরী ইনিংস, যা ক্রিকেট বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
ঝড়ের নাম বৈভব: ৪২ বলে ১৪৪ সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচে ২২ গজে রীতিমতো তাণ্ডব চালান বৈভব। তার ৪২ বলের ইনিংসে ছিল ১৫টি বিশাল ছক্কা এবং ১১টি চারের মার। অর্থাৎ, ছক্কা থেকেই এসেছে ৯০ রান এবং চার থেকে ৪৪ রান। ইনিংসের প্রায় প্রতিটি বলেই সীমানা ছাড়া করার মানসিকতা নিয়ে ব্যাট করেছেন তিনি। ৩২ বলে শতরান পূর্ণ করে বৈভব ভারতীয়দের মধ্যে T20 ফরম্যাটে যুগ্মভাবে তৃতীয় দ্রুততম শতরানের মালিক হয়েছেন। তার সাথে একই আসনে রয়েছেন তারকা ক্রিকেটার ঋষভ পন্থ।
তবে এমন বিধ্বংসী ইনিংস খেলেও মোহাম্মদ ফারাজউদ্দিনের একটি ধীর গতির বলে আহমেদ তারিককে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। আর এই আউট হওয়া নিয়েই বাবার কাছে শুনতে হয়েছে স্নেহের ভর্ৎসনা।
‘বাবাকে খুশি করা সহজ নয়’ ম্যাচের পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে বৈভবকে তার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলতে দেখা যায়। ছেলের এমন চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সের পরেও তার বাবা খুঁত বের করতে ছাড়েননি। তিনি বলেন, "তুই যদি ওই শটটা (আউট হওয়ার শট) কভারের ওপর দিয়ে আর একটু জোরে মারতে পারতি, তাহলে ওটা ছয় হয়ে যেত।"
বাবার এই মন্তব্যে হেসে ফেলে বৈভব উত্তর দেন, "ঠিকমতো খেলতে পারিনি। বলটা একটু আস্তে এসেছিল।" এই কথোপকথনের পরই ভিডিওতে বৈভব বলেন, "বাবাকে সহজে খুশি করা যায় না। আমি যদি আজ ২০০ রানও করতাম, তাহলেও বাবা বলতেন যে আরও বেশি রান করা উচিত ছিল। তবে মা একেবারে অন্যরকম। আমি শূন্য করি বা শতরান, মা সবসময় খুশি হয় এবং আমাকে আরও ভালো খেলার জন্য উৎসাহ দেয়।"
রেকর্ডের খাতায় নতুন নাম বৈভবের এই পারফরম্যান্স কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। গত জুলাই মাসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি Youth ODI ম্যাচে ৭৮ বলে ১৪৩ রান করে তিনি এক বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের নাজমুল হোসেন শান্তর প্রায় ১২ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে কনিষ্ঠতম ক্রিকেটার হিসেবে যুব ওয়ানডেতে শতরান করার নজির গড়েন তিনি। শান্ত যখন এই রেকর্ড গড়েছিলেন, তখন তার বয়স ছিল ১৪ বছর ২৪১ দিন। বৈভব সেই রেকর্ড ভাঙেন মাত্র ১৪ বছর ১০০ দিন বয়সে।
তরুণ এই প্রতিভার দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্স টুর্নামেন্টে তার পরবর্তী ম্যাচ পাকিস্তান শাহিনসের বিপক্ষে। সেই ম্যাচেও তার ব্যাট থেকে নতুন কোনো রেকর্ড বেরিয়ে আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।