যুক্তরাষ্ট্রের ফিনিক্স, সান ফ্রান্সিসকো থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস—একাধিক বড় শহরে সফলভাবে চালকবিহীন ‘রোবোট্যাক্সি’ পরিষেবা চালু করে সাড়া ফেলেছে গুগলের মূল সংস্থা অ্যালফাবেটের অধীনস্থ ওয়েমো। এবার আটলান্টিক পেরিয়ে যুক্তরাজ্যের রাজধানীতেও নিজেদের প্রযুক্তি নিয়ে আসতে চলেছে এই সংস্থা। আমেরিকার পর এবার লন্ডনের রাস্তায় চালকবিহীন ট্যাক্সি সেবা চালুর এক масштаб পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ওয়েমো, যা আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
লন্ডনের রাস্তায় পরীক্ষামূলক যাত্রা
বুধবার (১৫ অক্টোবর) ওয়েমোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই লন্ডনের ব্যস্ত রাস্তায় তাদের স্বয়ংক্রিয় গাড়িগুলির পরীক্ষা শুরু হবে। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনে, প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিটি গাড়ির স্টিয়ারিং হুইলের পেছনে একজন প্রশিক্ষিত ‘সেফটি ড্রাইভার’ বা নিরাপত্তা চালক উপস্থিত থাকবেন।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাস ধরে তারা লন্ডনে তাদের বাণিজ্যিক পরিষেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ‘ভিত্তি স্থাপন’ করবে। এর অংশ হিসেবে, বাণিজ্যিক রাইড-হেইলিং (Ride-hailing) পরিষেবার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি পেতে স্থানীয় প্রশাসন এবং জাতীয় স্তরের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাবে ওয়েমো।
শুধু প্রযুক্তি নয়, সামনে কঠোর আইনি চ্যালেঞ্জ
ওয়েমোর জন্য লন্ডনের পথ আমেরিকার শহরগুলির মতো মসৃণ হবে না। এখানে তাদের যুক্তরাজ্যের স্বয়ংক্রিয় যানবাহন সংক্রান্ত নতুন এবং কঠোর আইন মেনে চলতে হবে। এই আইন অনুযায়ী, যেকোনো স্বয়ংক্রিয় গাড়ির নিরাপত্তার মান "কমপক্ষে একজন সতর্ক এবং দক্ষ মানব চালকের সমান" হতে হবে। এর জন্য সংস্থাটিকে একাধিক কঠোর নিরাপত্তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
শুধু তাই নয়, ওয়েমোকে লন্ডনের পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন’ (TfL)-এর নিয়মকানুনও মানতে হবে। এই সংস্থাই শহরের ঐতিহ্যবাহী ব্ল্যাক ক্যাব এবং উবারের মতো অন্যান্য ট্যাক্সি অপারেটরদের লাইসেন্স প্রদান ও তদারকি করে থাকে। ফলে, প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের পাশাপাশি জটিল আইনি প্রক্রিয়াও সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে ওয়েমোকে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের পথে ওয়েমো
বর্তমানে ওয়েমো যুক্তরাষ্ট্রের ফিনিক্স, সান ফ্রান্সিসকো, লস অ্যাঞ্জেলেস, আটলান্টা এবং অস্টিনের মতো শহরে তাদের সম্পূর্ণ চালকবিহীন পরিষেবা প্রদান করছে। লন্ডনের আগে এশিয়ার বাজারে প্রবেশের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে চলতি বছর জাপানেও স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে পরীক্ষামূলক কাজ শুরু করেছে তারা, যদিও সেখানে বাণিজ্যিক পরিষেবা চালুর কোনো নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
সব পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হলে, ওয়েমো ২০২৬ সালের বসন্তে যুক্তরাজ্য সরকারের পরিকল্পিত ‘ছোট আকারের’ স্বয়ংক্রিয় ট্যাক্সি এবং বাস পরিষেবার জন্য একটি পাইলট প্রোগ্রামে (Pilot Program) অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। এই পদক্ষেপ সফল হলে লন্ডনের গণপরিবহন ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।