বিনোদন জগতে প্রায় দেড় দশকের বর্ণাঢ্য ‘Career’ বা কর্মজীবন। তেলুগু, কন্নড়, মালয়ালম, হিন্দি এবং বাংলা—পাঁচটি ভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্র শিল্পে নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন অভিনেত্রী শ্রদ্ধা দাস। তবে বাংলাদেশের দর্শকদের স্মৃতিতে তিনি আজও উজ্জ্বল, যদিও সেই পরিচিতির নেপথ্যে ছিল এক বড়সড় বিতর্ক। আজ থেকে প্রায় সাত বছর আগে ভারত-বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় বা ‘Joint Production’-এ নির্মিত একটি সিনেমায় সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করে ঢালিউড পাড়ায় রীতিমতো ঝড় তুলেছিলেন মুম্বাইয়ের এই বাঙালি কন্যা।
‘বাদশা’ ও সেই বিতর্কিত অধ্যায়
২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বাদশা’ ছবিটি ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনার একটি বড় বাজেটের প্রজেক্ট। ছবিতে কলকাতার ‘Superstar’ জিতের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন শ্রদ্ধা দাস, সঙ্গে ছিলেন নুসরাত ফারিয়াও। কিন্তু সিনেমাটি মুক্তির পরপরই শ্রদ্ধার অভিনয় বা গল্পের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে আসে তাঁর একটি বিশেষ দৃশ্য।
ছবিতে একটি ‘Intimate Scene’ বা শয্যাদৃশ্য এবং বিকিনি পরিহিত দৃশ্যে শ্রদ্ধার উপস্থিতি তৎকালীন সময়ে ঢাকার রক্ষণশীল দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে চায়ের আড্ডা—সর্বত্রই চলে তুমুল বিতর্ক। সেই বিতর্কই তাঁকে রাতারাতি ঢাকার দর্শকদের কাছে পরিচিত করে তোলে। যদিও সেই সমালোচনার ঝড় এখন অতীত, তবুও ঢাকাই সিনেমায় তাঁর সেই সাহসী পদক্ষেপ আজও অনেকের মনে গেঁথে আছে।
মুম্বাইয়ের বাঙালি ললনার উত্থান
শ্রদ্ধা দাসের জন্ম মুম্বাইয়ের এক সম্ভ্রান্ত বাঙালি পরিবারে। বাবা পেশায় ব্যবসায়ী এবং মা গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি ছিল প্রবল ঝোঁক। ২০০৮ সালে তেলুগু সিনেমা ‘সিদ্দু ফ্রম সাইকাকুলাম’-এর মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তাঁর। গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডে পা রাখার পরপরই নিজের প্রতিভার জানান দেন তিনি। অভিষেকের পরই পরপর ছয়টি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া হতে এসেছেন।
প্রথাগত ছক ভেঙে ভিন্নধর্মী চরিত্রে
শুধুমাত্র গ্ল্যামারাস চরিত্রেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি শ্রদ্ধা। গৎবাঁধা ছক ভেঙে চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করাই তাঁর বৈশিষ্ট্য। কখনো তিনি বড় কোনো ‘Corporate’ প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কখনো মানসিক বিকারগ্রস্ত প্রেমিকা (Psycho Lover), আবার কখনো ইস্পাত-দৃঢ় মানসিকতার পুলিশ অফিসার—সব চরিত্রেই সাবলীল অভিনয় করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। বলিউডে অজয় দেবগনের প্রযোজনায় ‘দিল তো বাচ্চা হ্যায় জি’, রোমান্টিক ড্রামা ‘সনম তেরি কসম’ এবং নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীর সঙ্গে ‘বাবুমশাই বন্দুকবাজ’-এর মতো জনপ্রিয় ও প্রশংসিত সিনেমায় অভিনয় করেছেন শ্রদ্ধা। প্রতিটি চরিত্রেই তিনি ভেঙেছেন নিজেকে, গড়েছেন নতুন করে।
ওটিটিতে নতুন রাজত্ব
বড় পর্দার পাশাপাশি বর্তমানে ডিজিটাল দুনিয়া বা ‘OTT Platform’-এ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এই অভিনেত্রী। নেটফ্লিক্সের অত্যন্ত জনপ্রিয় সিরিজ ‘খাকি: দ্য বিহার চ্যাপ্টার’ (সোর্স নিউজে চ্যাপ্টার ওয়ান ও টু উল্লেখ থাকলেও এটি মূলত একটি সিরিজ)-এ তার উপস্থিতি সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সর্বশেষ তিনি আলোচনায় এসেছেন জিও সিনেমার ওয়েব সিরিজ ‘সার্চ: দ্য নায়না মার্ডার কেস’-এর সুবাদে। মাসখানেক আগে মুক্তি পাওয়া এই থ্রিলার সিরিজটিতে তিনি রক্ষা পাতিল নামের এক তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। গল্পে এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার গোপন প্রেমিকা হিসেবে তাঁর ‘Performance’ দর্শকদের নজর কেড়েছে। গ্ল্যামার এবং অভিনয়ের মুন্সিয়ানায় ওটিটির পর্দায় শ্রদ্ধা এখন নির্মাতাদের কাছে এক আস্থার নাম।