• জাতীয়
  • ‘সাধারণ হয়েও তিনি ছিলেন অসাধারণ’: সুফিয়া কামালের ২৬তম প্রয়াণ দিবসে জীবন উদযাপনের আহ্বান

‘সাধারণ হয়েও তিনি ছিলেন অসাধারণ’: সুফিয়া কামালের ২৬তম প্রয়াণ দিবসে জীবন উদযাপনের আহ্বান

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
‘সাধারণ হয়েও তিনি ছিলেন অসাধারণ’: সুফিয়া কামালের ২৬তম প্রয়াণ দিবসে জীবন উদযাপনের আহ্বান

রক্ষণশীলতার প্রাচীর ভেঙে নারীমুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন জননী সাহসিকা; মহিলা পরিষদের শ্রদ্ধার্ঘ্যে উঠে এলো কালজয়ী সংগ্রামের উপাখ্যান

বাংলাদেশের নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, মানবতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মূর্ত প্রতীক কবি সুফিয়া কামালের ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী বা Death Anniversary পালিত হয়েছে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) ছিল এই মহীয়সী নারীর প্রয়াণ দিবস। দিনটি উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ—যার গোড়াপত্তন করেছিলেন স্বয়ং সুফিয়া কামাল—আয়োজন করে এক ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ শ্রদ্ধা নিবেদন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সকাল ১১টায় রাজধানীর আনোয়ারা বেগম–মুনিরা খান মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সুফিয়া কামাল কেবল একটি নাম নন, তিনি একটি ‘প্রতিষ্ঠান’ বা Institution। রক্ষণশীল সমাজের ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে তিনি যেভাবে নারী জাগরণের মশাল জ্বালিয়েছিলেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক।

শ্রদ্ধা ও স্মৃতিচারণ: আবেঘন পরিবেশ

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এক ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেত্রীবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা প্রথমে কবি সুফিয়া কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের বা Lighting Candles মাধ্যমে অন্ধকার ভেদ করে আলোর পথে যাত্রার প্রতীকী শ্রদ্ধা জানানো হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। ঢাকা মহানগর কমিটির মাধবী বণিক, আরিফা আক্তার কাঁকন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক শাহজাদী শামীমা আফজালী সংগীত পরিবেশন করেন। তাদের গানে উঠে আসে দেশপ্রেম, জাগরণ ও মানবতার বার্তা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম।

রক্ষণশীলতা ভেঙে নেতৃত্বের শিখরে

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, ‘‘আমরা সুফিয়া কামালের জন্মদিন বা মৃত্যুদিবস কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায় পালন করি না; আমরা মূলত তার বর্ণাঢ্য ‘জীবন’ বা Life and Legacy-কেই উদযাপন করি।’’

তিনি কবির সংগ্রামী জীবনের বিশ্লেষণ করে বলেন, ‘‘তৎকালীন সমাজের চরম রক্ষণশীল বা Conservative Family কাঠামোর ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষা, সাহিত্য, মানবিকতা ও নেতৃত্বের শিখরে পৌঁছানো ছিল এক বিস্ময়কর অধ্যায়। সুফিয়া কামালের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষণ ক্ষমতা বা Analytical Power ছিল অত্যন্ত তীক্ষ্ণ, যা যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমাদের পথ দেখাত।’’

‘স্রোতের বিপরীতে হাঁটা এক অনন্য কারিগর’

বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী বা Human Rights Activist এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সুহৃদ সুলতানা কামাল তার বক্তব্যে সুফিয়া কামালের জীবনের বহুমাত্রিক দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘‘তিনি অত্যন্ত সাধারণ একজন মানুষ ছিলেন, কিন্তু তার কর্ম ও চিন্তা তাকে ‘অসাধারণ’ বা Extraordinary করে তুলেছিল। জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়েছেন এবং নতুন করে ভাবার সাহস দেখিয়েছেন।’’

সুলতানা কামাল আরও উল্লেখ করেন, নারীমুক্তি ও মানবমুক্তির প্রশ্নে সুফিয়া কামাল কখনোই আপস করেননি। তিনি একটি সমন্বিত বা Integrated Society গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। তার সাংগঠনিক দক্ষতা ছিল অসামান্য, যার প্রমাণ প্রায় ২০টি ভিন্ন ভিন্ন সংগঠন প্রতিষ্ঠায় তার প্রত্যক্ষ অবদান।

বিবেকের আয়নায় সুফিয়া কামাল

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘‘সুফিয়া কামাল আজ আমাদের মাঝে শারীরিকভাবে উপস্থিত নেই ঠিকই, কিন্তু আমাদের চিন্তা, মনন ও চেতনার গভীরে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন।’’

তিনি কবির নৈতিক অবস্থানের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘‘বিবেকের তাড়নায় চলা এবং নিজের বিবেককে কলুষমুক্ত রাখা ছিল সুফিয়া কামালের আজীবন সংগ্রাম বা Lifelong Struggle। তিনি সবসময় মানবিক সমাজ গঠনের জন্য নাগরিকদের দায়িত্ববোধ, আত্মপরিচয় এবং ‘বিবেকশক্তি’ বা Conscience-এর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।’’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটির নেত্রীবৃন্দ, জাতীয় পরিষদের সদস্য, সম্পাদকমণ্ডলী এবং কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা অঙ্গীকার করেন, সুফিয়া কামালের আদর্শ ধারণ করেই আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে নারী সমাজ এগিয়ে যাবে।

Tags: bangladesh culture gender equality human rights women rights sufia kamal mahila parishad death anniversary sultana kamal