ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং আল্লাহ ও সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশ বাউল সমিতির সভাপতি ও বিশিষ্ট লোকসংগীত শিল্পী আবুল সরকার। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) মানিকগঞ্জের একটি আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর বা Sent to Jail আদেশ দেন। এর আগে মাদারীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ঘটনাটি বাউল সমাজ এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে ব্যাপক চালঞ্চ্য সৃষ্টি করেছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তার বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠছিল।
গ্রেপ্তার ও আইনি প্রক্রিয়া
মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার বা Superintendent of Police (SP) মোছাম্মদ ইয়াছমিন খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে মাদারীপুর জেলার একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে গানের অনুষ্ঠানে অবস্থান করছিলেন আবুল সরকার। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে Police Custody বা হেফাজতে নেয়।
বিকেলে তাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিকগঞ্জ আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিতর্কিত মন্তব্য ও ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ ঝড়
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত গত ৪ নভেম্বর। মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় অনুষ্ঠিত ‘খালা পাগলীর মেলা’-য় গান পরিবেশন করতে যান বাউল আবুল সরকার। গানের এক পর্যায়ে তিনি আল্লাহ ও সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা উপস্থিত শ্রোতাদের একাংশ এবং স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে ‘আপত্তিকর’ ও ‘ধর্মবিদ্বেষী’ মনে হয়।
পরবর্তীতে সেই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ Social Media বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়। ফেসবুক ও ইউটিউবে নেটিজেনদের তীব্র সমালোচনা এবং প্রতিবাদের ঝড় বা Public Outrage শুরু হয়। বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন ও সাধারণ মানুষ তার শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হন।
মামলা ও পুলিশি তদন্ত
ঘিওর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কোহিনুর মিয়া জানান, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার মুফতি আব্দুল্লাহ নামক এক ব্যক্তি বাদী হয়ে আবুল সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে একটি মামলা বা Case Filed করেন।
ওসি বলেন, “ইসলাম ধর্ম ও আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলাটি রুজু হয়েছে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত বা Investigation করছি। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।”
পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন জানান, গ্রেপ্তারের পর আবুল সরকারকে প্রথমে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরবর্তীতে ঘিওর থানায় দায়েরকৃত মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
বাউল সমাজ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া
আবুল সরকারের গ্রেপ্তারের ঘটনায় বাউল শিল্পী ও ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, বাউল দর্শনের রূপক অর্থ না বুঝে অনেকে ভুল ব্যাখ্যা করছেন। অন্যদিকে, ধর্মীয় নেতারা বলছেন, বাকস্বাধীনতার নামে ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হানা বা Hate Speech কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বর্তমানে আবুল সরকারের মুক্তি ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলছে।