• রাজনীতি
  • ভূমিকম্পের ধকল কাটাতে ‘মানবিক ঐক্যের’ ডাক: নগর পরিকল্পনা ঢেলে সাজানোর দাবি গণসংহতির

ভূমিকম্পের ধকল কাটাতে ‘মানবিক ঐক্যের’ ডাক: নগর পরিকল্পনা ঢেলে সাজানোর দাবি গণসংহতির

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
ভূমিকম্পের ধকল কাটাতে ‘মানবিক ঐক্যের’ ডাক: নগর পরিকল্পনা ঢেলে সাজানোর দাবি গণসংহতির

উদ্ধারকাজ ও পুনর্বাসনে সরকারকে ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ দেওয়ার আহ্বান; মানসিক ট্রমা কাটাতে পরস্পরের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা জোনায়েদ সাকির।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) রাতের শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দেশের বিস্তীর্ণ জনপদ। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া চরম আতঙ্কের প্রেক্ষাপটে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব এই ভয়াবহ বিপর্যয় মোকাবিলায় ভেদাভেদ ভুলে সকলকে পরস্পরের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ বা Emergency Response গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

মানবিক বিপর্যয় ও সংহতির আহ্বান

ভূমিকম্পে নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে শুক্রবার রাতে এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল।

বিবৃতিতে তারা বর্তমান পরিস্থিতিকে গভীর মানবিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করেন। নেতৃদ্বয় বলেন, “আজকের এই প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পে আমরা অনেক তাজা প্রাণ হারিয়েছি। বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন, ধসে পড়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি। এই ধ্বংসযজ্ঞের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে মানুষের মানসিক বিপর্যয় বা Mental Trauma। ভূমিকম্পের সময় সৃষ্ট আতঙ্ক এখনো কাটেনি; বিশেষ করে পরিবারের শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের নিয়ে অনেকেই গভীর দুশ্চিন্তা ও Anxiety-তে দিন কাটাচ্ছেন।”

এই মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে সামাজিক সংহতির ওপর জোর দিয়ে তারা বলেন, “দুর্যোগের এই মুহূর্তে আতঙ্ক মানুষকে দুর্বল করে দেয়। এই ভয় কাটাতে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আসুন, আমরা প্রতিবেশীর খোঁজ নিই এবং বিপদগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াই।”

সরকারের কাছে ‘কুইক অ্যাকশন’ দাবি

বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে অন্তর্বর্তী সরকারের আশু করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট রূপরেখা দিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন। বিবৃতিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, কালক্ষেপণ না করে অবিলম্বে Rescue Operation বা উদ্ধারকাজ জোরদার করতে হবে।

জোনায়েদ সাকি ও আবুল হাসান রুবেল সরকারের কাছে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেন: ১. উদ্ধারকাজকে ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ বা Top Priority দেওয়া এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছে কি না, তা দ্রুত নিশ্চিত করা। ২. আহতদের জন্য উন্নত ও দ্রুত Medical Treatment-এর ব্যবস্থা করা। ৩. নিহতদের পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব রাষ্ট্রকে গ্রহণ করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে Rehabilitation বা পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া।

নগর পরিকল্পনায় ‘প্যারাডাইম শিফট’ প্রয়োজন

ভবিষ্যৎ দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে গণসংহতি আন্দোলন। নেতৃদ্বয় বলেন, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতি কতটুকু, তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। প্রচলিত Urban Planning বা নগর পরিকল্পনার ত্রুটিগুলোই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, “শুধু আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সরকারকে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে। আমাদের নগর পরিকল্পনা ঢেলে সাজাতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় এলে জানমালের ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।” একইসঙ্গে মানুষের মধ্যে সৃষ্ট ভীতি ও মানসিক চাপ প্রশমন বা Stress Management-এর জন্যও সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

Tags: interim government humanitarian crisis disaster management rescue operation earthquake bangladesh gonosanghati andolon zonayed saki urban planning