শুক্রবার ভোরে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ক্ষত এখনো দগদগে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশ। এবার কম্পনের কেন্দ্রস্থল বা Epicenter ছিল রাজধানী ঢাকার অদূরে গাজীপুরের বাইপাইল এলাকা। নরসিংদীর মাধবদীতে সংঘটিত শক্তিশালী ভূকম্পনের পর আবহাওয়া অধিদপ্তরের এই নতুন তথ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে ভীতির সঞ্চার করেছে।
রিখটার স্কেলে মাত্রা ও উৎপত্তিস্থল
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র (Earthquake Observation and Research Centre) সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট ১২ সেকেন্ডে এই কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে (Richter Scale) এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৩।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বরত পেশাগত সহকারী নিজাম উদ্দিন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, এটি একটি ‘লোকাল’ বা স্থানীয় ভূমিকম্প। এর মাত্রা তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র বা Mild Magnitude-এর হলেও এর উৎপত্তিস্থল ছিল বাইপাইল, যা ঘনবসতিপূর্ণ শিল্প এলাকার অন্তর্ভুক্ত। উৎপত্তিস্থল অগভীর হওয়ায় আশপাশের এলাকায় কম্পন স্পষ্ট অনুভূত হয়েছে।
২৪ ঘণ্টার ভীতি ও শুক্রবারের ট্র্যাজেডি
এর ঠিক আগেই, শুক্রবার সকালে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী Tremor বা কম্পন অনুভূত হয়েছিল, যার উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী ও ভৈরব সংলগ্ন এলাকা। ওই ঘটনাটি দেশের মানুষের মনে গভীর দাগ কেটেছে। শুক্রবারের সেই শক্তিশালী কম্পনে এখন পর্যন্ত দুই শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ঢাকায় চারজন, ভূমিকম্পের Epicenter নরসিংদীতে পাঁচজন এবং নারায়ণগঞ্জে একজন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে বা ছাদ থেকে পড়ে আহত হয়েছেন কয়েকশ মানুষ। শুক্রবারের ওই ঘটনার পর গাজীপুরের বিভিন্ন স্কুল, মসজিদ এবং আবাসিক ভবনে ফাটল বা Structural Crack দেখা দেওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
নিরাপত্তা ও সতর্কতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরপর দুদিন দুটি ভিন্ন Fault Line বা উৎপত্তিস্থল থেকে ভূমিকম্পের ঘটনা ভূতাত্ত্বিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও শনিবারের ৩.৩ মাত্রার কম্পনটি বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়নি, তবে ঘনবসতিপূর্ণ আরবান এলাকায় (Urban Area) এমন ঘনঘন কম্পন বড় কোনো বিপদের পূর্বাভাস কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠছে।
পরপর এই কম্পনের ঘটনায় সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে বহুতল ভবনে বসবাসকারীদের ভূমিকম্প চলাকালীন Safety Protocol মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।