ভূমিকম্পের ধাক্কা: আশুলিয়ার কম্পন, উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর পলাশে
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও আতঙ্কের রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার সকালে আবারও কেঁপে উঠলো রাজধানী সংলগ্ন এলাকা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র**‘আশুলিয়ার ভূকম্পন নরসিংদীর আফটারশক’: শতবর্ষে সর্বোচ্চ ঝুঁকির মুখে ঢাকা, জরুরি সতর্কতা জারি **
শুক্রবার ৫.৭ মাত্রার কম্পনের রেশ কাটেনি; ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফের কেঁপে উঠল আশুলিয়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ বড় আকারের ভূমিকম্পের 'হাই-রিস্ক জোন'-এ
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, নরসিংদীর মাধবদীতে শক্তিশালী ভূকম্পন অনুভূত হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই পুনরায় কেঁপে উঠেছে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকা। শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট ১২ সেকেন্ডে রেকর্ড হওয়া এই কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে (Richter Scale) ৩ দশমিক ৩।
ভূমিকম্প গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবায়েত কবির স্পষ্টতই জানিয়েছেন, আশুলিয়ায় অনুভূত হওয়া এই মৃদু কম্পনটি মূলত শুক্রবারের মূল ভূমিকম্পের একটি আফটারশক (Aftershock)। এই আফটারশক নতুন করে আবারও জনসাধারণের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
আফটারশকের উৎস এবং ভৌগোলিক বিশ্লেষণ
ভূমিকম্প গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবায়েত কবির এই ঘটনাটিকে ভূতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করেছেন জানিয়েছে, শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট ১২ সেকেন্ডে আশুলিয়ার বাইপাইলে এই কম্পনটি রেকর্ড করা হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৩।
এই কম্পনটিকে শুক্রবারের মূল ভূমিকম্পের 'আফটারশক' হিসেবে চিহ্নিত করেছে গবেষণা কেন্দ্র।
আফটারশক: উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর পলাশ
আশুলিয়ায় অনুভূত হওয়া এই কম্পন নরসিংদীর মাধবদীতে হওয়া কম্প। তাঁর মতে, আশুলিয়ায় অনুভূত হওয়া কম্পনের উৎপত্তিস্থল বা এপিসেন্টার (Epicenter) ছিল নরসিংদীর পলাশে। এটি গতকাল শুক্রবার মাধবদীতে অনুভূত হওয়া ৫.৭ মাত্রার মূলনেরই আফটারশক বলে নিশ্চিত করেছেন ভূমিকম্প গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবায়েত কবির। তিনি বলেন, আশুলিয়ায় অনুভূত ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর পলাশে।
ভূমিকম্পের কম্পনেরই রেশ বা আফটারশক।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আফটারশক সাধারণত মূল উৎপত্তিস্থল থেকে ১০ থেকে ২০ কিলোমিটার দূরেও অনুভূত হতে পারে। সেক্ষেত্রে, পলাশের কম্পনটি গতকালের শক্তিশালী ভূমিকম্পের উৎপআফটারশক** সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, এই ধরনের কম্পন মূল এপিসেন্টার (Epicenter) থেকে সাধারণত ১০ থেকে ২০ কিলোমিটার দূরেও অনুভূত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে গতকালের শক্তিশালী ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছেইত্তিস্থলের বেশ কাছাকাছিই হয়েছে, যা এই অঞ্চলের ভূত্বকের অস্থিতিশীলতা নির্দেশ করে। এই পুনরাবৃত্তিমূলক কম্পন বৃহত্তর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শুক্রবারের ৫.৭ মাত্রার ভয়াবহ কম্প এই কম্পনটি হয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে, ভূ-অভ্যন্তরে চাপ সৃষ্টি হওয়ার প্রক্রিয়াটি এখনও সক্রিয় রয়েছে।
শতবর্ষের নজিরবিহীন কম্পন ও ১০ প্রাণহানি
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করছেন। গত শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৯ মিনিটে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার যে তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল, তা বাংলাদেশ এবং ভারত দুই দেশেই প্রভাব ফেলে। শক্তিশালী ওই কম্পনে রাজধানী ঢাকা, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে মোটন ও হতাহতের পরিসংখ্যান
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে দেশের রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল, যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭। সকাল ১০টা ৩৯ মিনিটে অনুভূত হওয়া এই শক্তিশালী কম্পনটি বাংলাদেশ ১০ জনের প্রাণহানি ঘটে। নিহতদের মধ্যে ঢাকায় চারজন, নরসিংদীতে পাঁচজন এবং নারায়ণগঞ্জে একজন ছিলেন। এ ছাড়া আহত হন কয়েকশ মানুষ, যা দেশের অবকাঠামোগত ঝুঁকির বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তোলে।
এবং ভারত—উভয় দেশেই তীব্রভাবে অনুভূত হয়।
এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে সারা দেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দুই শিশুসহ মোট ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। নিহতদের মধ্যে ঢাকায় চারজন, নরসিংদীতে পাঁচজন এবং নারায়াণগঞ্জে একজন ছিলেন। এছাড়া সারা দেশে আহত হয়েছেন কয়েকশ মানুষ। এত অল্প সময়ের ব্যবধানে এই ধরনের দুটি কম্পন সংঘটিত হওয়ায় জনমনে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।'বড় ঝুঁকির মধ্যে দেশ': গবেষণা কেন্দ্রের গুরুতর সতর্কবার্তা
আফটারশকের ঘটনার পর ভূমিকম্প গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবায়েত কবির সামনে বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে গুরুতর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'গত ১০০ বছরে ঢাকায় এমন ভূমিকম্প হয়নি, যেটি গতকাল হয়েছে। আমরা একটি বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি।'
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকা, দুর্বল অবকাঠামো এবং দ্রুত নগরায়ণের ফলে ঢাকা **টে
'আমরা বড় ঝুঁকির মধ্যে': শতবর্ষের সতর্কবার্তা
ভূমিকম্প গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবায়েত কবির এই দুটি ভূমিকম্পের ঘটনা উল্লেখ করে এক জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "গত ১০০ বছরে ঢাকায়কনিক্যালি (Technically)** একটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। মানুষের মধ্যে এখন এই ধারণাই বদ্ধমূল, এরপর আবারও এমন বড় ভূমিকম্প (Earthquake) হতে পারে, যা জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
ভূমিক এমন শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়নি, যেটি গতকাল হয়েছে। আমরা বর্তমানে বড় আকারের ভূমিকম্পের হাই-রিস্ক জোনে (High-Risk Zone) রয়েছি।" তাঁর এই মন্তব্য দেশের ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেম্প ঝুঁকির ম্যাপ: উচ্চ ঝুঁকিতে কোন কোন জোন-১ এলাকা?
ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায় সমগ্র বাংলাদেশকে মোট ৩টি জোনে (Zone) ভাগ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলার জন্য অবিলম্বে একটি এন্টারপ্রাইজ স্ট্যান্ডার্ড (Enterprise Standard) প্রস্তুতি গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের জোন-১ মানচিত্র: উচ্চ ঝুঁকির আওতাধীন এলাকা
ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায় আবহাওয়া অধিদপ্তর সমগ্র বাংলাদেশকে মোট তিনটি জোনে (Zone) ভাগ করেছে। উচ্চ ঝুঁকির আওতাভুক্ত অঞ্চলকে জোন-১, মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাকে জোন-২ এবং নিম্ন ঝুঁকিপ্রবণ এলাকাকে জোন-৩ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত মানচিত্রে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি এলাকা জোনোন-১ (Zone-1):** উচ্চ ঝুঁকির আওতাভুক্ত অঞ্চল। 2. জোন-২ (Zone-2): মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। 3. জোন-৩ (Zone-3): নিম্ন ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত মানচিত্রে দেখা যায়, দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি এলাকা জোন-১-এর আওতায় সর্বোচ্চ ঝুঁকিপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত। ফল্ট লাইন (-১-এর আওতায় সর্বোচ্চ ঝুঁকিপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত। ভূতাত্ত্বিকরা বলছেন, যে অঞ্চলগুলো ফল্ট লাইন (Fault Line) বা প্লেট বাউন্ডারির (Plate Boundary) কাছাকাছি অবস্থিত, সেগুলোইFault Line) বা প্লেট বাউন্ডারির (Plate Boundary) কাছাকাছি অঞ্চলগুলো ভূমিকম্পের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
উচ্চ ঝুঁকিপ্রবণ জোন-১ এলাকা:
সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের ৯টি জেলা।
ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল, গাজীপুর, নরসিংদীর কিছু অংশ এবং সম্পূর্ণ কিশোরগঞ্জ জেলা।
কুমিল্লা বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
পার্বত্য জেলা খাগড়াছ ভূমিকম্পের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
জোন-১ (সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ) এলাকাগুলো হলো:
সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের ৯টি জেলা।
ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল, গাজীড়ি ও রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকা।
অন্যদিকে, জোন-৩ এলাকাভুক্ত খুলনা, যশোর, বরিশাল ও পটুয়াখালীতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
Search Tags: earthquake, aftershock, seismic zone, bangladesh risk, dhaka quake, richter scale, fault line, zone 1, disaster warning, narsingdiপুর, নরসিংদীর কিছু অংশ এবং সম্পূর্ণ কিশোরগঞ্জ জেলা।
কুমিল্লা বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকা।
অন্যদিকে, জোন–৩ এলাকাভুক্ত খুলনা, যশোর, বরিশাল ও পটুয়াখালীতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম বলে মানচিত্রে দেখানো হয়েছে।