সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ (Frankenstein) এবং তারও আগে ‘এক্স’ ও ‘পার্ল’ সিনেমার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছেন ব্রিটিশ অভিনেত্রী মিয়া গোথ (Mia Goth)। বিশেষ করে, গত ৭ নভেম্বর সিনেমাটি নেটফ্লিক্সে (Netflix) মুক্তির পর তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশ ছুঁয়েছে। আইএমডিবি (IMDb) নামক বিশ্বখ্যাত অনলাইন ডেটাবেজে দর্শকদের পছন্দের তালিকায় তিনি বর্তমানে শীর্ষে অবস্থান করছেন। এলিজাবেথ চরিত্রে তাঁর অভিনয় ‘এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি’তে তাঁর শক্ত অবস্থান প্রমাণ করেছে।
অভিনয়ের বীজ বপন শৈশবে: ব্রাজিল থেকে মডেলিংয়ে
মিয়া গোথের জন্ম ব্রিটেনে হলেও তাঁর জীবনের শুরুটা ছিল ভিন্ন। তাঁর শৈশব কেটেছে দাদির কাছে ব্রাজিলে। তাঁর দাদিও ছিলেন একজন অভিনেত্রী। ব্রাজিলে পাঁচ বছর কাটানোর সময় থেকেই মিয়ার মধ্যে অভিনয়ের প্রতি তীব্র আগ্রহ তৈরি হয়। পরে তিনি ব্রাজিল থেকে ব্রিটেনে তাঁর মায়ের কাছে ফিরে আসেন।
জীবনের এক সময় পরিবারটি অর্থনৈতিক সংকটের (Financial Crisis) মুখে পড়ে। পরিবারকে সহায়তা করার চিন্তা থেকেই মিয়া গোথ মডেলিং (Modeling) শুরু করেন। এই সময় তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি অভিনয়ে মনোযোগ দেন।
প্রথম সিনেমাতেই প্রেমে, উত্থান ‘এক্স’ দিয়ে
মিয়া গোথের অভিনয় জীবনের শুরুটা মসৃণ ছিল না। ২০১৫ সালে ‘নিম্ফোম্যানিয়াক’ (Nymphomaniac) নামের একটি সিনেমায় ছোট চরিত্রে ডাক পান তিনি। সেখানে তাঁকে একটি আবেদনময়ী চরিত্রে দেখা যায়। সিনেমাটি থেকে খুব বেশি সাড়া না পেলেও এই সিনেমার সেটেই তিনি তাঁর সহ-অভিনেতা শিয়া লাবিউফের (Shia LaBeouf) প্রেমে পড়েন। পরের বছর, অর্থাৎ ২০১৬ সালে তাঁরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
তবে বড় পরিচিতি পেতে তাঁকে দীর্ঘ ৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়। তিনি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হন ২০২২ সালে ‘এক্স’ (X) সিনেমাটি দিয়ে। একই বছর ‘পার্ল’ (Pearl) সিনেমা দিয়েও তিনি হলিউডে (Hollywood) একজন 'স্ট্রং পারফর্মার' (Strong Performer) হিসেবে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। এরপর আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তাঁর এই উত্থান 'হলিউড ব্লকবাস্টার' (Hollywood Blockbuster) জগতে তাঁর 'ক্যারিয়ার গ্রোথ' (Career Growth) নিশ্চিত করেছে।
ব্রিটিশ এই অভিনেত্রী এখন দুই বছর পর মুক্তিপ্রাপ্ত গিয়ের্মো দেল তোরো পরিচালিত ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ দিয়ে নতুন করে আলোচনায় রয়েছেন। তিনি আইএমডিবির আলোচিত তারকার তালিকায় বর্তমানে ২ নম্বরে অবস্থান করছেন। এই ধরনের 'পাবলিক অ্যাকসেপ্ট্যান্স' (Public Acceptance) এবং 'ডিজিটাল এনগেজমেন্ট' (Digital Engagement) তাঁকে 'টেক-স্যাভি' (Tech-Savvy) প্রজন্মের কাছে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে।