ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিজেদের দাপট বজায় রেখে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিলো পাকিস্তান। রাওয়ালপিন্ডির মাঠে আজ শ্রীলঙ্কাকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে স্বাগতিক দল। মোহাম্মদ নেওয়াজের দুর্দান্ত বোলিং এবং ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানের বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করে ১২৯ রানের লক্ষ্য তারা মাত্র ২৭ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখেই পেরিয়ে যায়। এই জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে পাকিস্তান।
বোলারদের দাপটে শ্রীলঙ্কাকে আটকে রাখল পাকিস্তান
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের আঁটসাঁট বোলিংয়ের মুখে শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হয়। নির্ধারিত ২০ ওভারে লঙ্কানরা ৭ উইকেটে সংগ্রহ করে কেবল ১২৮ রান। শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ ৪১ রান করে অপরাজিত থাকেন জানিত লিয়ানাগে (৩৮ বলে)। এছাড়া কুশল পেরেরা ২৫ এবং কামিল মিশারা ২২ রান যোগ করেন। পাকিস্তানের বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মদ নেওয়াজ তার Superb Performance দিয়ে মুগ্ধ করেছেন। তিনি ৪ ওভার বল করে মাত্র ১৬ রান খরচ করে ৩টি মূল্যবান উইকেট তুলে নেন, যার ফলে পরে তিনি Man of the Match নির্বাচিত হন।
সাহিবজাদা ফারহানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস
জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা ছিল যথেষ্ট আক্রমণাত্মক। ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানের ব্যাট থেকে আসে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। তিনি মাত্র ৪৫ বলে ৮০ রানের একটি অসাধারণ ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৬টি চার ও ৫টি বিশাল ছক্কা। Long On দিয়ে চার মেরে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন সাহিবজাদা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার আগের সর্বোচ্চ ছিল ৭৪ রান, যা তিনি এ বছরই বাংলাদেশের বিপক্ষে লাহোরে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লডারহিলে দুবার করেছিলেন।
সাহিবজাদা সতীর্থ সাইম আইয়ুবকে নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ৫ ওভারেই ৪৭ রান যোগ করেন। সাইম ৮ বলে ২০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দাসুন শানাকার বলে স্টাম্পড হন। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে দলের Star Batsman বাবর আজমকে নিয়ে ৬৯ রানের কার্যকর একটি জুটি গড়েন সাহিবজাদা। বাবর আজম ২২ বলে ১৬ রান করে লঙ্কান পেসার দুষ্মন্ত চামিরার বলে বোল্ড হন। এরপরই চামিরা পরের বলে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগাকে LBW করে হ্যাটট্রিকের সামনে এসে দাঁড়ান। তবে অভিজ্ঞ উসমান খান চামিরাকে সেই হ্যাটট্রিক করতে দেননি।
টানা দুই ম্যাচে জয় পাওয়া পাকিস্তান আগামীকালই আবার মাঠে নামবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১২৮/৭ (লিয়ানাগে ৪১*, কুশল পেরেরা ২৫, মিশারা ২২; নেওয়াজ ৪/১৬)। পাকিস্তান: ১৫.৩ ওভারে ১৩১/৩ (সাহিবজাদা ৮০*, সাইম ২০, বাবর ১৬; চামিরা ২/২৯)। ফল: পাকিস্তান ৭ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মোহাম্মদ নেওয়াজ।