• জাতীয়
  • গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা: শেখ হাসিনাসহ ১৩ সেনা কর্মকর্তার ভাগ্য নির্ধারণের পালা

গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা: শেখ হাসিনাসহ ১৩ সেনা কর্মকর্তার ভাগ্য নির্ধারণের পালা

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা: শেখ হাসিনাসহ ১৩ সেনা কর্মকর্তার ভাগ্য নির্ধারণের পালা

ক্ষমতায় থাকাকালীন টিএফআই ও জেআইসি-তে বিরোধী মতের ওপর নিষ্ঠুরতা; ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নিতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন গ্রেপ্তার ১৩ সেনা অফিসারের।

আওয়ামী লীগ (AL) সরকারের সময় টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (TFI) এবং জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (JIC)-এ বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তিদের তুলে নিয়ে গুম ও নিষ্ঠুর নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের হওয়া দুটি পৃথক মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই ঐতিহাসিক মামলার অভিযুক্তদের তালিকায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বর্তমান ও সাবেক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা রয়েছেন। মামলার গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে, গ্রেপ্তারকৃত ১৩ জন সেনা কর্মকর্তার পক্ষ থেকে আদালতে সশরীরের পরিবর্তে ভার্চুয়াল (Virtual) মাধ্যমে পরবর্তী হাজিরা দেওয়ার জন্য একটি জরুরি আবেদন জমা পড়েছে।

ভার্চুয়াল শুনানির আবেদন ও আদালতের কার্যক্রম

রোববার (২৩ নভেম্বর) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে কয়েকজন আসামির পক্ষে এই আবেদনপত্রটি জমা দেন তাদের আইনজীবী মাইদুল ইসলাম পলক। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি গ্রহণ করবেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চ। আজকের শুনানিতে গ্রেপ্তার সংক্রান্ত ওয়ারেন্ট (Warrant) ফেরতসংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল এবং পলাতক আসামিদের জন্য State Defense (রাষ্ট্রীয় আইনি সহায়তা) নিয়োগের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে, যা মামলার গতিপথ নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।

অভিযুক্ত উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা

মামলার নথি ও ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, গুমের মামলায় সশরীরে নয়, বরং Digital Platform ব্যবহার করে ভার্চুয়াল হাজিরা চাওয়া হয়েছে গ্রেপ্তারকৃত ১৩ জন সেনা কর্মকর্তার পক্ষ থেকে। তাঁরা দেশের বিভিন্ন Key Position-এ দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের তালিকা নিম্নরূপ:

১. র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম ২. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার ৩. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান ৪. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম ৫. ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ ৬. কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন ৭. কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে) ৮. র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান ৯. লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ১০. লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম ১১. ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন ১২. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ১৩. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী

ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা

গ্রেপ্তারকৃত সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা এবং মামলার শুনানির দিন হওয়ায় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুলাংশে জোরদার করা হয়েছে। সকাল থেকেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে পুলিশ, RAB, ও BGB-এর বিপুল সংখ্যক সদস্য Deployment-এ রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধ করতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে এবং যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত।

Tags: bangladesh sheikh hasina war crime tribunal army officers virtual hearing task force rab dgfi ghum torture case