বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির (Shilpa Shetty) ব্যক্তিগত জীবনে নানা বিতর্ক ও সমস্যার ঝড় যেন থামছেই না। এই কঠিন পরিস্থিতিতে নিজের মর্যাদা ও ব্যক্তিস্বত্বার সুরক্ষায় (Protection of Individuality) তিনি এক অনন্য আইনি পথে হেঁটেছেন। নিজের ‘প্রোটেকশন অব পার্সোনালিটি রাইটস’ (Protection of Personality Rights)— এই অধিকার দাবি করে তিনি সরাসরি দ্বারস্থ হলেন বম্বে হাইকোর্টের (Bombay High Court)। এই বিষয়ে তিনি ‘বিগ বস’ খ্যাত আইনজীবী সানা রইস খানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বিতর্কের আঁচে দগ্ধ এই নায়িকা এবার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তার ব্যক্তিত্ব, তার নাম, তার ছবি কেউ ইচ্ছেমতো ব্যবহার করতে পারবে না।
অনুমতি ছাড়া ছবি ও তথ্যের ভুল ব্যবহার
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই বলিউডের অনেক তারকার ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভুলভাবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠছিল। সেই ধারাবাহিকতায় শিল্পাও আদালতের শরণাপন্ন হলেন। শিল্পা শেঠির মূল অভিযোগ হলো—বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইট তার নাম ও ছবি অনুমতি ছাড়াই (Without Consent) এবং ভুলভাবে ব্যবহার করছে।
অভিনেত্রীর অভিযোগ, কিছু অসাধু লোক তাদের প্রচারের স্বার্থে ভুয়ো ছবি ব্যবহার করছে। শুধু তাই নয়, অভিনেত্রীর ছবি ও ভিডিওগুলো বিকৃত (Morphed/Distorted) করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই কার্যকলাপ কেবল শিল্পার আর্থিক ক্ষতি (Financial Loss)-ই করছে না, বরং তার ভাবমূর্তির ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
‘কষ্টার্জিত খ্যাতি’ রক্ষার আবেদন
‘বিগ বস’ (Big Boss) খ্যাত আইনজীবী সানা রইস খান বলেন, “শিল্পা শেঠির কষ্টার্জিত খ্যাতি কেউ তার অনুমতি ছাড়া নিজের স্বার্থে কাজে লাগাতে পারে না। বছরের পর বছর ধরে অর্জন করা এই খ্যাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এসব ছবির ব্যবহার। তার ভাবমূর্তি (Image/Reputation) নষ্ট হচ্ছে। ব্যক্তিগত লাভের জন্য কোনোভাবেই অভিনেত্রীর ছবি এভাবে ব্যবহার করা যায় না।”
আদালতের মাধ্যমে শিল্পা এবার স্পষ্ট বার্তা দিলেন—তার ব্যক্তিত্ব (Personality), তার নাম, তার ছবি কেউ ইচ্ছেমতো ব্যবহার করতে পারবে না।
উল্লেখ্য, শিল্পা শেঠির আগে বলিউডের আরও অনেক জনপ্রিয় এবং প্রবীণ তারকা এই একই ইস্যুতে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। অমিতাভ বচ্চন, অভিষেক বচ্চন, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন এবং হৃতিক রোশনের মতো অভিনেতারাও নিজেদের ‘প্রোটেকশন অব পার্সোনালিটি রাইটস’ রক্ষায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই আইনি পদক্ষেপ ডিজিটাল যুগে (Digital Age) নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা।