দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের প্রভাবে জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়ায়, এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ এবং দেশ ও জাতির সামগ্রিক মঙ্গল কামনায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ (বিপিইউপি)-এর উদ্যোগে এক বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। উচ্চমার্গের সাংবাদিকতার মান বজায় রেখে এই ঘটনাটি ডিজিটাল মাধ্যমে পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হলো।
আতঙ্ক থেকে পরিত্রাণ: জাতীয় স্তরে উদ্যোগ
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এই মহৎ উদ্যোগ নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মূল প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হলেও, একই সঙ্গে সারা দেশে বিপিইউপি-এর তত্ত্বাবধানে মঠ ও মন্দিরগুলোতেও একই উদ্দেশ্য নিয়ে সমবেত প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। ঘন ঘন ভূকম্পনের কারণে সৃষ্ট মানসিক চাপ ও ভয় দূর করতে এবং প্রকৃতির রুদ্ররোষ থেকে মুক্তি পেতে সনাতন সমাজের এই সম্মিলিত আর্জি একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
ঢাকেশ্বরীতে কেন্দ্রীয় সভার কার্যপ্রণালী
কেন্দ্রীয় প্রার্থনা সভাটি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শ্রী জয়ন্ত কুমার দেবের সভাপতিত্বে সভার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এই প্রার্থনা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পুরোহিত শ্রী তপন ভট্টাচার্য্য।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দপ্তর সম্পাদক শ্রী শচীন্দ্র নাথ বাড়ৈ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সৃষ্ট জন-উদ্বেগ নিরসনে আধ্যাত্মিক উপায়ে জাতির কল্যাণ কামনা করাই ছিল এই সভার মূল লক্ষ্য।
নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি ও বার্তা
বিশেষ প্রার্থনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী বাসুদেব ধর। তিনি দেশের সকল নাগরিককে এই কঠিন সময়ে ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহ্বান জানান এবং প্রকৃতির এই বিপর্যয় থেকে দ্রুত পরিত্রাণের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন।
কেন্দ্রীয় প্রার্থনা সভায় বিপিইউপি-এর শীর্ষ নেতৃত্বসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শ্রী সন্তোষ শর্মা, জয়ন্ত সেন দীপু, মিলন কান্তি দত্ত, মনীন্দ্র কুমার নাথ, অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল, অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, বিপ্লব কুমার দে, রমেন মণ্ডল, সুভাশীষ বিশ্বাস সাধন, ধ্রুব কুমার লস্কর এবং অ্যাডভোকেট কিশোর কুমার বসু রায় চৌধুরী পিন্টু প্রমুখ।
এই সম্মিলিত উপস্থিতি একটি বার্তা দেয় যে, দেশের যেকোনো দুর্যোগ বা সংকটে সনাতন সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ ও জাতির কল্যাণে আধ্যাত্মিক ও সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণে প্রস্তুত।