কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কঠোর পদক্ষেপ: বহিষ্কার বিতর্কিত নেতা
পুলিশ সদস্যকে কামড় দিয়ে গ্রেফতার এড়ানোর চেষ্টার অভিযোগে সমালোচিত বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম হাওলাদারকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের পক্ষে দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মাসুম হাওলাদারকে ছাত্রদলের সকল পদ এবং প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত: পুলিশকে কামড় ও হামলা
ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের গত ১৫ নভেম্বর। সেদিন গভীর রাতে (রাত আড়াইটা) নগরীর ভাটারখাল স্পিডবোট ঘাট এলাকায় কোতোয়ালি মডেল থানার অধীন স্টিমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল অভিযান চালায়। ছাত্রদল নেতা মাসুম হাওলাদারকে গ্রেফতারের চেষ্টার সময় তার পরিবার ও আশপাশের লোকজন পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে লাঠি ও ইট ছুড়তে শুরু করলে স্টিমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ, উপপরিদর্শক গোলাম মোহাম্মদ নাসিমসহ তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মাসুম হাওলাদার পুলিশের একজন এটিএসআইর হাতে কামড় দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তবে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গেই তার স্ত্রী রিমি বেগম, ভাই সোহেল হাওলাদার, বোন শিল্পী আক্তার ও বন্ধু রিফাতকে আটক করে।
একাধিক মামলা ও বর্তমানে কারাগারে মাসুম
পুলিশের ওপর হামলা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। পালিয়ে যাওয়ার তিন দিন পর আবার অভিযান চালিয়ে মাসুম হাওলাদারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, মাসুম হাওলাদার বর্তমানে মাদকসহ মোট তিনটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের কারণ হিসেবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কথা বলা হলেও, মাসুম হাওলাদারের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে মাসুম ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতা, মাদক বিক্রি ও ছিনতাইয়ের মতো একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ আছে। সংগঠন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় ছাত্রদলের অভ্যন্তরে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হলো যে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড (Criminal Activity) সহ্য করা হবে না।