জনাকীর্ণ পুরান ঢাকা মানেই সরু গলি আর লাগোয়া ভবন, যেখানে আগুনের সংবাদ মুহূর্তেই ছড়িয়ে দেয় চরম আতঙ্ক। সোমবার (১ ডিসেম্বর) বিকেলেও এমনই এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল রাজধানীর চকবাজার এলাকায়। ডালপট্টির একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ‘Panic’। তবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অকুতোভয় কর্মীদের প্রায় দেড় ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টায় বড় কোনো হতাহত ছাড়াই নিয়ন্ত্রণে এসেছে আগুনের লেলিহান শিখা।
আতঙ্ক ও ফায়ার সার্ভিসের ‘Rapid Response’
সোমবার বিকেলবেলা হঠাৎ করেই আগুনের ধোঁয়া দেখা যায় ডালপট্টির ওই আবাসিক ভবনটিতে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল প্রবল। খবর পাওয়া মাত্রই ফায়ার সার্ভিসের ‘Control Room’ থেকে দ্রুত নির্দেশনা দেওয়া হয়। কালবিলম্ব না করে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের একাধিক টিম।
ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া তথ্যমতে, আগুনের খবর পাওয়ার পরপরই লালবাগ ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ‘Unit’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ‘First Response’ হিসেবে কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা এবং এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তীতে পলাশী ও সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশন থেকে আরও ৫টি ইউনিট দ্রুত সেখানে যোগ দেয়। সব মিলিয়ে মোট ৭টি ইউনিটের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগুন নেভানোর কাজ চলে।
দেড় ঘণ্টার লড়াই ও স্বস্তি
পুরান ঢাকার সরু রাস্তায় পানির উৎস পাওয়া এবং গাড়ি প্রবেশ করানো সব সময়ই ফায়ার ফাইটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বা ‘Challenge’। তবুও দমকল বাহিনীর কর্মীরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন। বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে পানির প্রবাহ অব্যাহত রেখে আগুনের উৎসস্থল নিভিয়ে ফেলা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, তাদের কর্মীদের প্রচেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং এখন ‘Dumping’ বা ড্যাম্পিংয়ের কাজ চলছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা না গেলেও, আবাসিক ভবন হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানির শঙ্কা ছিল, যা ফায়ার সার্ভিসের সঠিক সময়ের পদক্ষেপে এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
পুরান ঢাকায় অগ্নিনিরাপত্তা ঝুঁকি
চকবাজার ও এর আশেপাশের এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অগ্নিকাণ্ডের জন্য ‘High Risk Zone’ হিসেবে বিবেচিত। রাসায়নিক গুদাম এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে এখানকার প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডই বড় ট্রাজেডিতে রূপ নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তবে সোমবারের এই ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা এবং ৭টি ইউনিটের একযোগে কাজ করা এলাকাবাসীর মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক এবং ধোঁয়া কাটতে শুরু করেছে।