• দেশজুড়ে
  • এনসিপি রাজশাহী কমিটি নিয়ে চরম অসন্তোষ: আহ্বায়ককে 'আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ' আখ্যা, সাংবাদিক হেনস্তা-তালাবদ্ধ করার হুমকি

এনসিপি রাজশাহী কমিটি নিয়ে চরম অসন্তোষ: আহ্বায়ককে 'আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ' আখ্যা, সাংবাদিক হেনস্তা-তালাবদ্ধ করার হুমকি

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
এনসিপি রাজশাহী কমিটি নিয়ে চরম অসন্তোষ: আহ্বায়ককে 'আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ' আখ্যা, সাংবাদিক হেনস্তা-তালাবদ্ধ করার হুমকি

সদ্য ঘোষিত কমিটি বাতিলের জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম; পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনের মাঝে চরম উত্তেজনা, সাংবাদিকরা দিলেন কাভারেজ বর্জনের ঘোষণা।

কমিটি নিয়ে তুঙ্গে বিরোধ ও আলটিমেটাম

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি - National Citizens Party)-র সদ্য ঘোষিত রাজশাহী জেলা কমিটি নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। কমিটির আহ্বায়কসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে 'আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতা' এবং সাম্প্রতিক 'জুলাই আন্দোলনের বিরোধীতা' করার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে দলটির একটি অংশ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে কমিটি বিলুপ্তির জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে।

রোববার (৩০ নভেম্বর) রাতে রাজশাহী নগরীর গণকপাড়া মোড়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই আলটিমেটাম দেওয়া হয়। এরপর বিক্ষুব্ধ অংশটি জেলার নতুন আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজনের কুশপুত্তলিকা (Effigy) দাহ করে।

পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক হেনস্তা ও হুমকি

এই উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে নিজের অবস্থান তুলে ধরে রাজশাহী পর্যটন মোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেন জেলার নব-গঠিত কমিটির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম। এই সম্মেলন চলাকালেই পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রায় ৩০ জন যুবক, যারা নিজেদের এনসিপির নেতা ও 'জুলাই যোদ্ধা' (July Activists) বলে পরিচয় দেন, তারা আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামকে 'আওয়ামী লীগের দোসর' (Associate of Awami League) আখ্যা দিয়ে কর্মসূচি ভণ্ডুল করার চেষ্টা চালান। এনসিপির দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়।

এ সময় দলের দুই সমর্থক, যারা শোয়েব ও মেহেদী নামে পরিচিত, তারা সভাকক্ষে ঢুকে সংবাদকর্মীদের বের হয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করার জন্য আলটিমেটাম দেন। এমনকি তারা পর্যটন মোটেলে তালাবদ্ধ করে ভেতরে আগুন দেওয়ারও হুমকি দেন। কর্মরত সংবাদকর্মীরা একাট্টা হয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং হুমকিদাতা দুজনকে মোটেলের বাইরে বের করে আনেন।

দীর্ঘ সময় এনসিপির কর্মীদের সঙ্গে সংবাদকর্মীদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় চলতে থাকে। পরে পুলিশ এসে উভয় পক্ষকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংবাদ কাভারেজ বর্জনের ঘোষণা

সংবাদকর্মীরা তাৎক্ষণিক এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। তাঁরা ঘোষণা দেন যে, এই ঘটনায় জড়িতদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা এনসিপির সকল কার্যক্রমের সংবাদ কাভারেজ থেকে বিরত থাকবেন।

এ বিষয়ে এনসিপির রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী ঘটনাটিকে 'দুঃখজনক' ও 'অনাকাঙ্ক্ষিত' বলে আখ্যায়িত করে বলেন, "সাংবাদিকদের সাথে তো কারো কোনো বিরোধ থাকতে পারে না।" তিনি জানান, অভিযুক্তরা এনসিপির কোনো পদে না থাকলেও তারা দলের সমর্থক এবং 'জুলাই যোদ্ধা' হিসেবে সক্রিয়।

আহ্বায়কের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ

গত ২৯ নভেম্বর রাতে এনসিপি রাজশাহী জেলা ইউনিটের ১০৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হলো—অস্ত্রধারী যুবলীগ ক্যাডার জহুরুল ইসলাম রুবেল, যিনি ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার মিছিলে দুই হাতে গুলি চালিয়েছিলেন এবং বর্তমানে কারাগারে আছেন—তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন সাইফুল। রুবেলের সঙ্গে সাইফুলের একটি কর্মসূচিতে পাশাপাশি অবস্থানের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা পরিচয় দেওয়া সুমাইয়া আক্তার অভিযোগ করেন, নতুন কমিটিতে আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজনকে রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, এই কমিটি জুলাইয়ের শহিদদের প্রতি অপমান এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি বাতিল না হলে তারা আবার রাস্তায় নামবেন।

সাইফুল ইসলামের আত্মপক্ষ সমর্থন

তবে সোমবার বিকেলে আলাদা সংবাদ সম্মেলনে জেলা আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগকে 'ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে দাবি করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, এক দশক আগে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তাঁর যে ছবিগুলো ভাইরাল হয়েছে, সেগুলো ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের—যেখানে তিনি কবিতা পাঠ বা উপস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি দাবি করেন, তিনি কখনো দলীয় রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন না।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই এনসিপি তাঁকে বেছে নিয়েছে এবং তাঁর অতীত সম্পর্কে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সম্পূর্ণ অবগত।

Tags: ncp rajshahi political conflict journalist harassment julai andolon saiful islam awami league connection effigy burning committee controversy