• বিনোদন
  • দেশ ছাড়ছেন তনি? স্বামীর টানে বিদেশ বিভুঁই নাকি ব্যবসার মায়া—কঠিন সিদ্ধান্তে কী জানালেন রোবাইয়াত ফাতিমা

দেশ ছাড়ছেন তনি? স্বামীর টানে বিদেশ বিভুঁই নাকি ব্যবসার মায়া—কঠিন সিদ্ধান্তে কী জানালেন রোবাইয়াত ফাতিমা

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
দেশ ছাড়ছেন তনি? স্বামীর টানে বিদেশ বিভুঁই নাকি ব্যবসার মায়া—কঠিন সিদ্ধান্তে কী জানালেন রোবাইয়াত ফাতিমা

নতুন অধ্যায়ে সুখের ছোঁয়া পেলেও ক্যারিয়ার বিসর্জনে নারাজ দেশের অন্যতম শীর্ষ নারী উদ্যোক্তা; স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, আত্মনির্ভরশীলতাই নারীর আসল 'পাওয়ার', নিজের পরিচয়ের সঙ্গে কোনো কম্প্রোমাইজ নয়।

বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়া ও ব্যবসায়িক অঙ্গনে রোবাইয়াত ফাতিমা তনি এক আলোচিত নাম। কখনো ব্যক্তিগত জীবন, কখনো বা তাঁর ব্যবসায়িক সাফল্য—নানা কারণে তিনি থাকেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সম্প্রতি জীবনের নতুন এক অধ্যায় শুরু করেছেন এই জনপ্রিয় Influencer ও নারী উদ্যোক্তা। তাঁর স্বামী প্রবাসে থাকায় ভক্তদের মনে দানা বেঁধেছে একটাই প্রশ্ন—তবে কি তনিও এবার দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন? ব্যবসার পাট চুকিয়ে তিনি কি পুরোদস্তুর গৃহিনী হয়ে উঠবেন? অবশেষে এসব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন তনি।

দেশত্যাগ নাকি ক্যারিয়ার: তনির সাফ কথা

নতুন সংসার নিয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই আছেন তনি। স্বামীর সঙ্গে সময় কাটানোকে তিনি তুলনা করছেন 'ভ্যাকেশনের' সঙ্গে। তিনি বলেন, "বেশ ভালো সময় কাটছে। মনে হচ্ছে যেন Vacation-এ আছি। আমার স্বামী দেশের বাইরে স্থায়ী। যখনই ছুটি পাই, ওর কাছে চলে যাই। জীবনটা খারাপ না, বেশ ভালোই।"

তবে বিদেশে স্থায়ী হওয়ার প্রশ্নে তনির উত্তর ছিল অত্যন্ত পেশাদার ও বাস্তববাদী। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, দেশ ছাড়ার কোনো পরিকল্পনাই তাঁর নেই। তনির ভাষ্য, "দেশের বাইরে স্থায়ী বা Settled হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ আমার মূল Business বাংলাদেশেই। এসব ছেড়ে আমি কখনোই বিদেশে গিয়ে বসে থাকতে চাই না।" তবে নিজের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার বিষয়ে তিনি উদার। উন্নত Education-এর জন্য সন্তানরা বিদেশে যেতে চাইলে মা হিসেবে তিনি তাদের পূর্ণ সমর্থন দেবেন।

নারী শক্তি ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি

একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে তনি সব সময়ই নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার পক্ষে কথা বলেন। তাঁর মতে, নারীরা নিজেদের দুর্বল ভাবাটাই তাদের পিছিয়ে পড়ার মূল কারণ। তিনি বলেন, "একজন নারীকে ভাবতে হবে—তুমি নারী, এটাই তোমার Power, এটাই তোমার শক্তি। এই শক্তিকে কাজে লাগিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।"

আমাদের সমাজে অনেক মেধাবী নারী পারিবারিক চাপে বা আবেগের বশবর্তী হয়ে ক্যারিয়ার বিসর্জন দেন। এ প্রসঙ্গে তনি কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, "দিনশেষে নিজের Career-এর সঙ্গে Compromise করা একেবারেই উচিত নয়। যাকে বিশ্বাস করে আপনি সব ছেড়ে দিচ্ছেন, সে যে ভবিষ্যতে প্রতারণা করবে না, তার কোনো গ্যারান্টি আছে কি? তাই নিজের পায়ে দাঁড়ানোটা জরুরি।"

বুলিং এবং সমালোচকদের কড়া জবাব

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিনিয়ত লাইভ করার সুবাদে তনিকে প্রায়ই সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে হয়। দুঃখজনকভাবে, এসব বুলিংয়ের বড় একটি অংশ আসে নারীদের কাছ থেকেই। এ নিয়ে নিজের হতাশা প্রকাশ করে তনি বলেন, "কাজের প্রয়োজনে আমাকে রোজ লাইভে আসতে হয়। সেখানে দেখা যায়, নারীরাই বেশি বুলিং বা Troll করছে। অনেকে আবার Fake ID ব্যবহার করে নোংরামি করছে।"

সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "গ্রাম থেকে এসে আমি এত কিছু কীভাবে করলাম, তা নিয়ে প্রশ্ন না তুলে নিজেদের যোগ্যতা বাড়ানো উচিত। অন্যের পেছনে সময় নষ্ট না করে নিজের Future গড়লে তা দেশের জন্যই মঙ্গলজনক। যারা শহরে থেকেও আমার চেয়ে ভালো কিছু করতে পারছেন না, তাদের উচিত ঈর্ষা না করে কাজের মাধ্যমে নিজেদের প্রমাণ করা।"

দ্বিমুখী সমাজব্যবস্থা ও নারীর স্বাধীনতা

সমাজে পুরুষদের একাধিক বিয়ে স্বাভাবিকভাবে দেখা হলেও নারীদের ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গি কেন ভিন্ন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তনি। তিনি বলেন, "আমাদের সমাজ চায় একজন বিধবা বা ডিভোর্সি নারী সারাজীবন একাই থাকুক। কিন্তু একজন নারীর ভালো-খারাপের সিদ্ধান্ত সমাজ চাপিয়ে দিতে পারে না। আইন ও ধর্ম মেনে নিজের জীবন গুছিয়ে নেওয়ার অধিকার সবারই আছে।"

বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ব্যবসায় কিছুটা ভাটা পড়লেও তনি আশাবাদী। তিনি বিশ্বাস করেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে তাঁর Business আবারও পূর্ণ উদ্যমে ঘুরে দাঁড়াবে।

Tags: women empowerment lifestyle news robayat fatima toni female entrepreneur bangladeshi influencer career tips social media trolling