• দেশজুড়ে
  • হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু উত্তরাঞ্চল: তেঁতুলিয়ায় আবারও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.৫

হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু উত্তরাঞ্চল: তেঁতুলিয়ায় আবারও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.৫

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু উত্তরাঞ্চল: তেঁতুলিয়ায় আবারও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.৫

টানা দুদিন ধরে তাপমাত্রার পারদ ১০-এর ঘরে; ঘন কুয়াশা আর বাতাসের উচ্চ হিউমিডিটি বা আর্দ্রতায় জেঁকে বসেছে শীত, মৌসুমের প্রথম ‘মাইল্ড কোল্ড ওয়েভ’-এর আভাস দিচ্ছে আবহাওয়া অফিস।

হিমালয়ের কোলঘেঁষা জেলা পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা যেন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। উত্তরের এই সীমান্তবর্তী জনপদে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। ঘন কুয়াশার চাদর আর হিমেল হাওয়ার দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। রোববার (৭ ডিসেম্বর) আবারও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এই জেলার তেঁতুলিয়ায়। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, এদিন সকালে থার্মোমিটারের পারদ নেমে আসে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি মৌসুমের ‘সিজনস লোয়েস্ট’ বা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

তাপমাত্রার পতন ও শৈত্যপ্রবাহের আভাস

উত্তরের হিমশীতল বাতাসের কারণে পঞ্চগড়ে শীতের অনুভূতি রাজধানী বা অন্যান্য জেলার তুলনায় সব সময়ই বেশি থাকে। গত দুদিন ধরে তাপমাত্রার এই নিম্নমুখী প্রবণতা আসন্ন শৈত্যপ্রবাহের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল ৯টাতেও তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টানা দুদিন ধরে একই তাপমাত্রা বজায় থাকা এবং তা ১০ ডিগ্রির কাছাকাছি অবস্থান করায় আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, খুব শীঘ্রই এই অঞ্চল দিয়ে মৌসুমের প্রথম মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বা ‘Mild Cold Wave’ বয়ে যেতে পারে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “শনিবার ভোর ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু বেলার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পারদ না বেড়ে উল্টো কমতে শুরু করে এবং সকাল ৯টায় তা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে নেমে আসে। রোববারও একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।”

কুয়াশা ও হিউমিডিটির দাপট

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই পুরো জেলা ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকে। দৃষ্টিসীমা বা ‘ভিজিবিলিটি’ কমে আসায় মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। সকাল ৮টার পর সূর্যের দেখা মিললেও রোদের তেজ ছিল নগণ্য।

আবহাওয়াবিদদের মতে, শীতের তীব্রতা বাড়ার পেছনে মূল কারণ বাতাসের উচ্চ আদ্রতা। রোববার সকালে বাতাসে ‘হিউমিডিটি’ বা আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় শরীরে শীতের অনুভূতি বা ‘Wind Chill’ ফ্যাক্টর অনেক বেশি কাজ করছে। অর্থাৎ, থার্মোমিটারে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি দেখালেও বাস্তবে তা আরও কম অনুভূত হচ্ছে।

দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য

রাতে এবং ভোরে হাড়কাঁপানো শীত অনুভূত হলেও দিনের বেলা তাপমাত্রা কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে থাকছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে ওঠানামা করছে। তবে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই তাপমাত্রার পারদ দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। দিন ও রাতের তাপমাত্রার এই বড় ব্যবধান বা ‘Diurnal Variation’ শিশুদের এবং বয়স্কদের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Tags: bangladesh weather cold wave weather forecast panchagarh news lowest temperature tetulia weather dense fog winter update season low northern region