বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে বর্তমানে চরম অরাজকতা ও দুর্নীতি বিরাজ করছে। এই দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির লাগাম টেনে ধরা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। এই লাগাম টেনে ধরতে না পারলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে, আর এই সংকট নিরসনে একমাত্র বিএনপিই সক্ষম বলে দাবি করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বিএনপির দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অরাজকতা ও দুর্নীতির চরম আকার: উন্নয়নের প্রধান বাধা
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলার লাগাম টেনে ধরতে না পারলে নারী, কৃষি, এবং স্বাস্থ্য খাতের জন্য নেওয়া যেকোনো পরিকল্পনাই ভেস্তে যাবে। তিনি মনে করিয়ে দেন, বড় বড় অবকাঠামো বা বহুজাতিক Tech Giant-এর বিনিয়োগ, এমনকি আধুনিক AI (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্য বা কৃষি প্রজেক্ট-এর উদ্যোগও সফল হবে না যদি মৌলিক প্রশাসনিক কাঠামোতে দুর্নীতি ও অরাজকতা চরম আকার ধারণ করে থাকে। এর ফলে দেশের সামগ্রিক Market Value এবং বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি সতর্ক করেন যে, একটি কার্যকরী Data Center বা আধুনিক প্রযুক্তিনির্র্ভর অর্থনীতি গড়ার স্বপ্নও এই দুই সংকটের কারণে মুখ থুবড়ে পড়বে।
দুর্নীতির লাগাম টানার ক্ষমতা: বিএনপির 'অঙ্গীকার'
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন যে, বাংলাদেশে একমাত্র তাঁর দল, অর্থাৎ বিএনপিই দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে পারবে। তিনি একে বিএনপির 'অঙ্গীকার' বা প্রতিজ্ঞা হিসেবে আখ্যা দেন। তাঁর মতে, Job Creation বা বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থান তৈরি করতে গেলেও সর্বপ্রথম দুর্নীতির শৃঙ্খল ভাঙা অপরিহার্য। তিনি বলেন, 'লাগাম টেনে ধরতেই হবে, এটাই বিএনপির অঙ্গীকার।'
'স্বৈরশাসকের মতো' সমালোচকরা: আদালতের প্রমাণ
নিজের দলের বিরুদ্ধে ওঠা সমালোচনার জবাবে তারেক রহমান কঠোর ভাষায় বলেন, 'স্বৈরশাসকের মতো কিছু মানুষ বিএনপির সমালোচনা করছে।' তিনি পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে তাঁদের দুজন মন্ত্রী ছিলেন এবং শেষ দিন পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় থেকে তাঁরা প্রমাণ করেছেন যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থান ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট ও আপোষহীন। তিনি আরও জানান, বিএনপির বিরুদ্ধে যত অভিযোগ আনা হয়েছে, তার একটিও এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
জাতীয় সরকার নয়, 'স্বনির্ভর বাংলাদেশ'ই লক্ষ্য
জাতীয় সরকার গঠন প্রসঙ্গে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানতে চেয়েছিলেন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচার পতনের দিন এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তবে তাঁরা প্রথমে জনগণের কাছে যাবেন। কারণ, জনগণই তাঁদের শক্তির মূল উৎস।
তিনি বলেন, যারা বিএনপির সমালোচনা করেন, তাদের অনেকেই ১৯৭১ সালে হত্যা, লুণ্ঠন আর নির্যাতন চালিয়েছে, যা জাতি ভুলে যায়নি। সুতরাং নতুন করে তাদের দেখার কিছু নেই।
দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা স্পষ্ট করে তিনি বলেন, বিএনপি বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, কানাডা কিংবা আমেরিকা বানাতে চায় না। তাদের লক্ষ্য হলো একটি 'স্বনির্ভর বাংলাদেশ' গড়া, যেখানে দেশের সম্পদ দেশের মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।
ষড়যন্ত্র রুখবে গণতন্ত্রই
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন সময়ে দেশ যখন সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে, তখন বিএনপি ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিয়েছে। দেশকে স্বাধীন করার জন্য লাখ লাখ মানুষ প্রাণ দিয়েছে, সেই দেশকে গড়তেও কাঁধে কাঁধ রেখে কাজ করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একমাত্র জনগণ ও গণতন্ত্র দেশের বিরুদ্ধে সব ধরনের ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।