অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর সাবেক চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের কোম্পানি এভিয়েশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও এক কোটি ২০ লাখ টাকারও বেশি পাওনা বাকি রাখার অভিযোগে মামলা করেছেন তিন পাইলট। আদালত তিন বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-এ এই মামলা রুজু হয়। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. তরিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
'ফেক কোম্পানি' খুলে প্রতারণার অভিযোগ
মামলার বাদীরা হলেন ক্যাপ্টেন মো. মাহবুব আলম, ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ রাশেদুল আমীন ও ক্যাপ্টেন জাহিদুর রহমান। তাঁরা অভিযোগে বলেন, সালমান এফ রহমানের কোম্পানি এভিয়েশন লিমিটেডে তাঁরা পাইলট হিসেবে চাকরি নিয়েছিলেন। এই কোম্পানিটি সালমান এফ রহমানের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হত এবং তিনি দেশের বিভিন্ন জায়গায় হেলিকপ্টারে করে যেতেন।
বাদীরা অভিযোগ করেন, কোম্পানিতে কর্মরত থাকাকালে তাঁরা বেতন-ভাতা ঠিকমতো পেলেও গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁদের বকেয়া পাওনা বাকি রেখেই চাকরি থেকে টার্মিনেট (বরখাস্ত) করা হয়। তাঁদের হিসাবে, ওই সময়ে পাইলটদের মোট এক কোটি ২০ লাখ ৫৫ হাজার টাকারও বেশি পাওনা বকেয়া ছিল।
বাদীরা আরও বলেন, পরবর্তীতে খোঁজখবর নিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, এই এভিয়েশন লিমিটেড কোম্পানিটি ছিল আসলে একটি 'ভুয়া কোম্পানি' বা Fake Company। তাঁদের অভিযোগ, আসামিরা একটি ভুয়া কোম্পানি গঠন করে তাঁদের কাছ থেকে Aviation Service নিয়েছে এবং এভাবে শত শত কোটি টাকাও লোপাট করেছে। এই প্রতারণার মাধ্যমেই আসামিরা তাঁদের পাওনা টাকা থেকে বঞ্চিত করেছে।
মামলার আসামি ও তদন্তের নির্দেশ
এই মামলার অপর অভিযুক্ত আসামিরা হলেন এভিয়েশন লিমিটেডের আব্দুল্লাহ খান মজলিশ, তাঁর ভাই ইমরান খান মজলিশ, গুলজার হোসাইন এবং সৈয়দ সামিউল ওয়াদুদ ওরফে সামি ওয়াদুদ।
পৃথক তিনটি মামলায় এই পাইলটরা এক কোটি ২০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা প্রতারণা করার অভিযোগ এনেছেন। আদালত এই অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং সুষ্ঠু Legal Process-এর অংশ হিসেবে তিন বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। একইসঙ্গে অভিযোগ তদন্ত করে সিআইডি পুলিশকে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশ White-Collar Crime তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।