বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন—বাঙালি নারী জাগরণের এক অবিস্মরণীয় নাম। তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজের লৌহকপাট ভেঙে যিনি নারীদের দেখিয়েছিলেন শিক্ষার আলো, শিখিয়েছিলেন মাথা উঁচু করে বাঁচার মন্ত্র। আজ সোমবার (৯ ডিসেম্বর) মহীয়সী এই নারীর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে বেগম রোকেয়াকে নারী জাগরণের ‘আলোক দিশারী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন নারী শিক্ষার এই অগ্রদূতকে এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। তারেক রহমানের এই বাণীতে উঠে এসেছে বেগম রোকেয়ার সংগ্রামী জীবন, দর্শন এবং আধুনিক সমাজ গঠনে তাঁর অপরিসীম অবদানের কথা।
রক্ষণশীলতার প্রাচীর ও এক অদম্য অগ্রদূত
ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে যখন মুসলিম নারী সমাজ অবরোধবাসিনী হয়ে অন্ধকারের অতলে নিমজ্জিত, ঠিক তখনই ত্রাণকর্তা হিসেবে আভির্ভূত হন বেগম রোকেয়া। তারেক রহমান তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন অত্যন্ত রক্ষণশীল এক পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে উঠেছিলেন। কিন্তু চারপাশের সেই সীমাবদ্ধতা তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বরং সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা এই Visionary বা দূরদর্শী নারী নিজ জীবনের কঠোর বাস্তবতা দিয়েই উপলব্ধি করেছিলেন সমাজের অচলায়তনকে।
তিনি বুঝেছিলেন, সমাজকে এগিয়ে নিতে হলে নারীদের পিছিয়ে রাখা চলবে না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ভাষায়, “তিনি অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করেছিলেন, শিক্ষাই নারীর আত্মমর্যাদা। বেগম রোকেয়া নারী শিক্ষার বিস্তারকে বিশিষ্টতা দিয়েছেন এবং এর মাধ্যমেই যে নারীর ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ (Personality Development) সম্ভব, তা তিনি প্রমাণ করে গেছেন।”
শিক্ষা ও আত্মমর্যাদাবোধ: মুক্তির মূলমন্ত্র
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন বেগম রোকেয়ার শিক্ষাবিস্তারের উদ্যোগের ওপর। পিছিয়ে পড়া মুসলিম নারী সমাজকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্য বেগম রোকেয়াই সর্বপ্রথম প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তবে এই পথচলা কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। নারীমুক্তির কথা বলতে গিয়ে তাঁকে সমাজের গোঁড়া রক্ষণশীল অংশের প্রবল বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল।
তারেক রহমান বলেন, “নারীমুক্তির বাণী বহন করতে গিয়ে তাঁকে সমাজের গোঁড়া রক্ষণশীলদের প্রচণ্ড আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন কর্তব্যকর্মে স্থির, অদম্য ও অবিচল।” শত প্রতিকূলতার মুখেও তিনি যে Social Movement বা সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।
লেখনীর ধার ও নারীর ‘ইকোনমিক ইন্ডিপেন্ডেন্স’
শুধুমাত্র স্কুল প্রতিষ্ঠাই নয়, বেগম রোকেয়া তাঁর ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমেও সমাজের মূলে আঘাত করেছিলেন। তারেক রহমান স্মরণ করিয়ে দেন যে, রোকেয়া তাঁর সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে নারীর প্রতি সমাজের অন্যায় ও বৈষম্যমূলক আচরণের স্বরূপ উন্মোচন করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, নারীর ক্ষমতায়ন বা Women Empowerment-এর চাবিকাঠি হলো অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।
তারেক রহমান বলেন, “সংসার, সমাজ ও অর্থনীতিকে জীবনের মর্মস্থলে তিনি স্থাপন করেছিলেন নারীর স্বায়ত্তশাসন ও আত্মমর্যাদা রক্ষা করতে। আর এজন্য তিনি বিশ্বাস করতেন নারীকে উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া প্রয়োজন। নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করতে তিনি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, শত কুপমণ্ডূকতার বাধা সত্ত্বেও।”
পরিশেষে, বাণীতে তারেক রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বেগম রোকেয়ার কর্মময় জীবন ও আদর্শ আজকের নারী সমাজকে আরও বেশি উদ্যমী ও অনুপ্রাণিত করবে। নারীর সঠিক স্বাধীনতা ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে বেগম রোকেয়া অনন্তকাল ধরে ধ্রুবতারার মতো পথ দেখাবেন।