• দেশজুড়ে
  • প্রথমবারের মতো ঢাকায় নেত্রকোনা মুক্ত দিবস উদযাপন, উঠে এলো মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা

প্রথমবারের মতো ঢাকায় নেত্রকোনা মুক্ত দিবস উদযাপন, উঠে এলো মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
প্রথমবারের মতো ঢাকায় নেত্রকোনা মুক্ত দিবস উদযাপন, উঠে এলো মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা

দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ৯ ডিসেম্বর পাক হানাদারমুক্ত হয় নেত্রকোনা; আগামী প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান।

দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর নেত্রকোনা জেলা পাক হানাদারমুক্ত হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবারই প্রথমবারের মতো রাজধানী ঢাকায় নেত্রকোনা মুক্ত দিবস উদযাপন করা হলো। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তোপখানা রোডে শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে এই আলোচনা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘নেত্রকোনা সাংবাদিক ফোরাম -ঢাকা’।

ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী খান লিথোর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও তার গুরুত্ব

আলোচনা সভায় বক্তারা নেত্রকোনা মুক্ত হওয়ার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করলেও নেত্রকোনা জেলা মুক্ত হয়েছিল ৯ই ডিসেম্বর। বক্তারা আগামী প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতা যুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও গুরুত্ব তুলে ধরার জোরালো আহ্বান জানান। সেইসাথে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্মরণে ‘নেত্রকোনা সাংবাদিক ফোরাম -ঢাকা’-এর এই ব্যতিক্রমী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন তাঁরা।

নেত্রকোনা মুক্ত করার বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস

১৯৭১ সালের এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী (Pakistani Occupation Army) থেকে নেত্রকোনা মুক্ত করে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন।

৮ ডিসেম্বর রাত থেকেই নেত্রকোনা শহরের বর্তমান বিএডিসি কৃষিফার্ম এলাকায় অ্যাম্বুস পেতে অপেক্ষায় ছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা।

৯ ডিসেম্বর ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই টাইগার খ্যাত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সিদ্দিক আহমদের নেতৃত্বে শুরু হয় তুমুল যুদ্ধ।

মুক্তি বাহিনীর তিন দিক থেকে আক্রমণের মুখে হানাদার বাহিনী ময়মনসিংহের দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

মরণপণ লড়াই করে নেত্রকোনা শহরকে মুক্ত করতে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন আবু খাঁ, আব্দুস সাত্তার, আব্দুর রশিদ-সহ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা।

৮ ডিসেম্বর রাত থেকে ৯ ডিসেম্বর সকাল ১০টা পর্যন্ত বীর মুক্তিযোদ্ধারা অবিরাম যুদ্ধ চালিয়ে শহরের রাজুরবাজার, চকপাড়া, সাতপাই, কাটলী, নাগড়া, কৃষিফার্ম এলাকা থেকে পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যদের বিতাড়িত করেন।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি, কলামিস্ট ও জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা মোশতাক আহমেদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আরিফ খান, সংগঠক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জান্নাতুল বাকের খান নন্দনসহ নেত্রকোনা সাংবাদিক ফোরাম-ঢাকা'র সদস্যবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে দেন নেত্রকোনা সাংবাদিক ফোরাম-ঢাকা’র সভাপতি রফিক মুহাম্মদ। এরপর সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

Tags: netrokona mukto dibos dhaka celebration netrokona journalists forum war of independence muktijuddha freedom fighters pak army