মাদকের ভয়াল থাবা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে এবার কঠোর অবস্থানে প্রশাসন। কুষ্টিয়া শহরের বুকে মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পরিচালিত হলো এক বড়সড় Joint Operation। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও ডিবি পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর এই ঝটিকা অভিযানে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে ১৩ জনকে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ‘অ্যাকশন’
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা নামতেই শহরের একাধিক ‘হটস্পট’ হিসেবে পরিচিত এলাকায় হানা দেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। Intelligence Report বা গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান পরিকল্পনা করা হয়। সন্ধ্যা থেকে শুরু করে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চলা এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে তন্ন তন্ন করে খোঁজা হয় মাদক কারবারিদের আস্তানা। অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ হাতেনাতে ধরা পড়ে ১৩ জন সন্দেহভাজন। এ সময় উদ্ধার করা হয় মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম বা Paraphernalia।
তাৎক্ষণিক বিচার ও সাজা
অভিযান শেষে আটকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে জগতি রেলস্টেশন প্ল্যাটফর্মে বসানো হয় Mobile Court। সেখানে জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা আক্তার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে আটককৃতদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক বিচার প্রক্রিয়াকে সাধুবাদ জানিয়েছেন উপস্থিত সাধারণ মানুষ।
কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
পুরো অভিযানের নেতৃত্ব দেন এবং সার্বিক তদারকি করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ। অভিযানের বিষয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, “শহরের বেশ কয়েকটি স্থানে মাদক কেনাবেচা চলছে—এমন Specific Information আমাদের হাতে ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এই Special Drive চালানো হয়।”
শহরকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।