• খেলা
  • এমবাপ্পের দম্ভ চূর্ণ করলেন বায়ার্নের ১৭ বছরের ‘বিস্ময় বালক’! চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গড়লেন নতুন ইতিহাস

এমবাপ্পের দম্ভ চূর্ণ করলেন বায়ার্নের ১৭ বছরের ‘বিস্ময় বালক’! চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গড়লেন নতুন ইতিহাস

খেলা ১ মিনিট পড়া
এমবাপ্পের দম্ভ চূর্ণ করলেন বায়ার্নের ১৭ বছরের ‘বিস্ময় বালক’! চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গড়লেন নতুন ইতিহাস

টানা তিন ম্যাচে গোল করে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ফরাসি সুপারস্টারের রেকর্ড নিজের করে নিলেন লেনার্ট কার্ল; ১২ মিনিটের ঝড়ে স্পোর্টিং সিপিকে উড়িয়ে টেবিলের শীর্ষে চোখ বায়ার্নের

বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে ধুমকেতুর মতো আবির্ভাব ঘটেছে এক নতুন তারকার। বায়ার্ন মিউনিখের জার্সি গায়ে চলতি মৌসুমে যেন রূপকথার জন্ম দিয়ে চলেছেন ১৭ বছর বয়সী জার্মান তরুণ লেনার্ট কার্ল। ফুটবল বোদ্ধারা তাকে এখনই ডাকতে শুরু করেছেন ‘Wonder Kid’ বা বিস্ময় বালক নামে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে তিনি যা করে দেখালেন, তা ছাপিয়ে গেছে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকেও।

এমবাপ্পেকে টপকে ইতিহাসের পাতায় কার্ল

অ্যালিয়াঞ্জ এরেনায় স্পোর্টিং সিপির বিপক্ষে বায়ার্নের জয়ে অন্যতম নায়ক ছিলেন লেনার্ট কার্ল। তবে শুধু ম্যাচ জেতানোই নয়, তিনি নাম লিখিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়। এই ম্যাচে গোল করার মধ্য দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের (UCL) ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে টানা তিন ম্যাচে গোল করার অবিস্মরণীয় রেকর্ড গড়েছেন তিনি।

রেকর্ডবুক বলছে, গতকাল গোল করার সময় কার্লের বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর ২৯০ দিন। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল ফরাসি সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপ্পের দখলে। মোনাকোর হয়ে খেলার সময় এমবাপ্পে ১৮ বছর ১১৩ দিন বয়সে টানা তিন ম্যাচে গোল করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করলেন বায়ার্নের এই তরুণ তুর্কি।

১২ মিনিটের ঝড়ে লন্ডভণ্ড স্পোর্টিং

ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। তবে নাটকীয়তার শুরু হয় দ্বিতীয়ার্ধে। বায়ার্নের আত্মঘাতী গোলে (Own Goal) হঠাৎই এগিয়ে যায় সফরকারী স্পোর্টিং সিপি। ঘরের মাঠে পিছিয়ে পড়ে স্তব্ধ হয়ে যায় গ্যালারি। কিন্তু বায়ার্ন মিউনিখ যে তাদের ‘Winning Mentality’ বা লড়াকু মানসিকতার জন্য পরিচিত, তার প্রমাণ মিলল এর পরেই।

গোল হজম করার পর যেন জেগে ওঠে বাভারিয়ানরা। মাত্র ১২ মিনিটের এক বিধ্বংসী ঝড়ে তছনছ হয়ে যায় স্পোর্টিংয়ের রক্ষণভাগ। এই স্বল্প সময়ে বায়ার্ন প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ায় তিনবার। এই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের বা ‘Comeback’-এর অন্যতম কারিগর ছিলেন লেনার্ট কার্ল। দলের প্রয়োজনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করে তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।

মাঠজুড়ে কার্লের রাজত্ব

শুধু গোল করাই নয়, পুরো ম্যাচজুড়েই কার্লের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। একজন দক্ষ ‘Playmaker’ হিসেবে তিনি সতীর্থদের জন্য একের পর এক সুযোগ বা ‘Chances Created’ করেছেন। তার ভিশন, ড্রিবলিং এবং বল কন্ট্রোল প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের ঘাম ছুটিয়ে দেয়। যদিও তিনি আর কোনো গোল পাননি, তবুও তার সামগ্রিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকেই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় বা ‘Player of the Match’ নির্বাচিত করা হয়।

পয়েন্ট টেবিলের সমীকরণ

স্পোর্টিং সিপিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পয়েন্ট টেবিলে শক্ত অবস্থানে উঠে এসেছে ভিনসেন্ট কোম্পানির শিষ্যরা। ৬ ম্যাচ শেষে বায়ার্নের সংগ্রহ ১৫ পয়েন্ট, যা তাদের টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে বসিয়েছে। শীর্ষে থাকা আর্সেনালের পয়েন্টও সমান ১৫, তবে ‘Goal Difference’ বা গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় গানাররা আপাতত এক নম্বরে রয়েছে। কার্লের এই ফর্ম অব্যাহত থাকলে বায়ার্ন যে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য।

Tags: match report football news champions league kylian mbappe bayern munich allianz arena lennart karl ucl record wonder kid sporting cp