বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটেছে। বর্তমানে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের Critical Care Unit (CCU)-তে জীবন রক্ষাকারী ‘ইলেক্টিভ ভেন্টিলেটর সাপোর্ট’-এ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তার কিডনি অকেজো হয়ে পড়ায় নিয়মিত ডায়ালাইসিস এবং রক্তক্ষরণ বন্ধে Blood Transfusion প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক জরুরি মেডিকেল বুলেটিনের মাধ্যমে বেগম জিয়ার স্বাস্থ্যের এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা জানায়। ৭৯ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা Multi-disciplinary Medical Board-এর প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহাবউদ্দিন তালুকদার স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে দেশবাসীকে কোনো প্রকার গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ফুসফুস ও কিডনির জটিলতায় ‘লাইফ সাপোর্ট’
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে বেগম জিয়ার শারীরিক প্যারামিটারগুলোর বা Vital Signs-এর ব্যাপক ওঠানামা পরিলক্ষিত হচ্ছিল। বিশেষ করে তার শ্বাসকষ্ট তীব্র আকার ধারণ করে। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় প্রথমে তাকে ‘হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা’ এবং পরবর্তীতে ‘বিপ্যাপ’ (BiPAP) মেশিনের মাধ্যমে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়।
কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় এবং ফুসফুসসহ শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে (Organs) বিশ্রাম দেওয়ার লক্ষ্যে চিকিৎসকরা তাকে Elective Ventilator Support-এ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তার কিডনির কার্যক্ষমতা প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে Hemodialysis বা ডায়ালাইসিস শুরু করা হয়েছে, যা এখনো চলমান।
শরীরে ছড়িয়েছে গুরুতর সংক্রমণ: প্যানক্রিয়েটাইটিস ও হৃদরোগ
মেডিকেল বোর্ডের তথ্যমতে, গত ২৭ নভেম্বর বেগম জিয়ার ‘একিউট প্যানক্রিয়েটাইটিস’ ধরা পড়ে। এর পাশাপাশি তার শরীরে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াল ও ফাঙ্গাল Infection বা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে তাকে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিফাঙ্গাল চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে পরিপাকতন্ত্রের রক্তক্ষরণ এবং ‘ডিআইসি’ (Disseminated Intravascular Coagulation)। এর ফলে তাকে নিয়মিত রক্ত এবং রক্তের বিভিন্ন উপাদান Transfusion দিতে হচ্ছে। এছাড়া, নিয়মিত ‘ইকো কার্ডিওগ্রাফি’ করার সময় তার হার্টের অ্যারোটিক ভালভে (Aortic Valve) কিছু অসংগতি ধরা পড়ে। পরবর্তীতে Trans-esophageal Echo পরীক্ষায় সেখানেও সংক্রমণের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের গাইডলাইন অনুযায়ী হৃদরোগের চিকিৎসাও শুরু করা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সতর্কতা ও আহ্বান
দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও আরথ্রাইটিসসহ নানাবিধ জটিল Chronic Diseases-এ ভুগছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই তার অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছে, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল টিম সর্বোচ্চ Professionalism বা পেশাদারিত্বের সঙ্গে দিন-রাত বেগম জিয়ার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমতাবস্থায়, কোনো ধরনের অনুমাননির্ভর সংবাদ বা গুজব প্রচার না করে মেডিকেল বোর্ডের ওপর আস্থা রাখার জন্য গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং তার আরোগ্য কামনায় দোয়া করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।